আইএমএফ-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০২৬ সালে মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতকে অতিক্রম করতে পারে বাংলাদেশ। ফাইল ছবি
দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ—ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লড়াই নতুন এক মোড় নিতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সর্বশেষ ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ প্রতিবেদনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বর্তমান বাজার মূল্যে মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) হিসেবে ভারতকে পেছনে ফেলতে পারে বাংলাদেশ। যদিও অংকের বিচারে এই ব্যবধান সামান্য, তবে ভূ-রাজনৈতিক ও প্রতীকী দিক থেকে এর তাৎপর্য অপরিসীম।
আইএমএফ-এর প্রাক্কলন বলছে, ২০২৬ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি বেড়ে দাঁড়াবে ২ হাজার ৯১১ ডলারে, যেখানে ভারতের ক্ষেত্রে এই অঙ্ক হবে ২ হাজার ৮১২ ডলার। ভারতের অর্থনীতি আয়তনের দিক থেকে বাংলাদেশের চেয়ে প্রায় আট গুণ বড় হওয়া সত্ত্বেও মাথাপিছু আয়ের এই সূচকে ছোট প্রতিবেশী দেশটির এই অর্জনকে ‘বিস্ময়কর’ বলে অভিহিত করেছেন বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসু।
গত এক দশকের উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০১৮ সাল থেকে পরবর্তী সাত বছর মাথাপিছু আয়ের দৌড়ে বাংলাদেশ ভারতের চেয়ে এগিয়ে ছিল। তবে ২০২৫ সালে বাংলাদেশি টাকার ব্যাপক অবমূল্যায়নের ফলে ভারত সাময়িকভাবে চালকের আসনে ফিরে আসে। ২০২৬ সালে বাংলাদেশ পুনরায় ভারতকে অতিক্রম করার পূর্বাভাস দিলেও আইএমএফ মনে করছে, ২০২৭ সালে ভারত আবারও তার শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করবে এবং ২০৩১ সাল পর্যন্ত তা বজায় রাখবে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই সূচকের ঘন ঘন পরিবর্তনের পেছনে মূল চালিকাশক্তি হলো মুদ্রার বিনিময় হার। ডলারে রূপান্তরিত করে জিডিপি গণনা করায় যখন টাকা বা রুপির মান কমে যায়, তখন প্রকৃত উৎপাদনশীলতা অপরিবর্তিত থাকলেও ডলারের মাপে মাথাপিছু আয় হ্রাস পায়। ফলে ২০২৬ সালে এই দুই অর্থনীতির রেখা একে অপরকে অতিক্রম করা যতটা না উৎপাদনশীলতার প্রতিফলন, তার চেয়ে বেশি মুদ্রাবাজারের অস্থিরতার ফলাফল।
বর্তমান ডলার মূল্যের হিসাবে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকলেও ‘ক্রয়ক্ষমতার সমতা’ বা পারচেজিং পাওয়ার প্যারিটি (পিপিপি) ভিত্তিক মাথাপিছু জিডিপিতে ভারত এখনো তার আধিপত্য ধরে রেখেছে। এই পদ্ধতিতে বিনিময় হারের প্রভাব বাদ দিয়ে স্থানীয় মুদ্রায় পণ্য ও সেবা কেনার সক্ষমতা যাচাই করা হয়।
আইএমএফ-এর তথ্যমতে, ২০২৫ সালে ভারতের পিপিপি-ভিত্তিক মাথাপিছু আয় ১১ হাজার ৭৮৯ ডলার, যা বাংলাদেশের (১০ হাজার ২৭১ ডলার) চেয়ে ১৫ শতাংশ বেশি। সংস্থাটি সতর্ক করেছে যে, ২০৩১ সাল নাগাদ এই ব্যবধান আরও বেড়ে ২৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। অর্থাৎ, সাধারণ জীবনযাত্রার মান ও সক্ষমতার বিচারে ভারত এখনো বাংলাদেশের চেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।
মাথাপিছু জিডিপির এই পরিসংখ্যান কেবল সংখ্যাতাত্ত্বিক লড়াই নয়, বরং এটি দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সক্ষমতার এক শক্তিশালী বার্তা। তবে দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্বের জন্য মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা এবং পিপিপি সূচকে উন্নয়ন ঘটানো বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। দুই দেশের অর্থনীতির এই ইঁদুর-দৌড় শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, তা নির্ভর করবে আগামী কয়েক বছরের কাঠামোগত সংস্কার ও বৈশ্বিক বাজারের পরিস্থিতির ওপর।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
