রাজধানীর ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন এক শিশু। ছবি: সংগৃহীত
দেশে শিশুদের মধ্যে হাম ও হামের উপসর্গের প্রাদুর্ভাব জনস্বাস্থ্যের জন্য এক চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম এবং এর সমজাতীয় উপসর্গ নিয়ে দেশে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই প্রকোপে এ পর্যন্ত সরাসরি হামে ৩৬ জন এবং এর উপসর্গে ১৮১ জনসহ মোট ২১৭টি শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। প্রাদুর্ভাবের এই ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফ এখন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ৮০৪টি শিশু ভর্তি হয়েছে। নতুন করে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৬৫ জনের দেহে। উদ্বেগের বিষয় হলো, আক্রান্তদের মধ্যে সিংহভাগই রাজধানীসহ ঢাকা বিভাগের। গত এক দিনে শনাক্ত হওয়া ১৬৫ শিশুর মধ্যে ১৪৮ জনই ঢাকা বিভাগের, যা এই অঞ্চলে ভাইরাসের দ্রুত বিস্তারের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, বর্তমানে সারা দেশে মোট ১ হাজার ১৯৭টি শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি অর্থাৎ ৫৬৩ জনই ঢাকা বিভাগের। সংক্রমণের ভয়াবহতা বাড়লেও আশার আলো দেখাচ্ছে সুস্থতার হার; গত ২৪ ঘণ্টায় ৬৪৫টি শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে। তবে গত এক মাসে ২৩ হাজার ৬০৬ জন শিশুর মধ্যে উপসর্গ দেখা দেওয়া এবং ১৫ হাজার ৩২৬ জনের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্যটি সার্বিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর ব্যাপক চাপের প্রতিফলন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ যা সঠিক সময়ে টিকাদানের মাধ্যমে প্রতিরোধযোগ্য। বিপুল সংখ্যক শিশুর মধ্যে উপসর্গ দেখা দেওয়া এবং মৃত্যুর এই হার নির্দেশ করে যে, মাঠপর্যায়ে টিকাদান কর্মসূচিতে কোনো বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা বিভাগে সংক্রমণের উচ্চ হার নিবিড় পর্যবেক্ষণের দাবি রাখে। সময়মতো পদক্ষেপ না নিলে এটি একটি বড় ধরনের জাতীয় স্বাস্থ্য সংকটে রূপ নিতে পারে।
শিশুর অকালমৃত্যু কেবল একটি পরিবারের শোক নয়, বরং একটি রাষ্ট্রের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বড় ধরনের ফাটল। ২১৭টি শিশুর এই প্রস্থান আমাদের টিকাদান কর্মসূচির কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে ভাববার সময় দিয়েছে। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে গণ-টিকাদান এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা না গেলে এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর মিছিল থামানো কঠিন হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পঙ্গুত্ব ও মৃত্যুঝুঁকি থেকে বাঁচাতে দ্রুত ও সমন্বিত রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
