× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

খালেদা জিয়ার ‘স্বাধীনতা পদক’ গ্রহণ করলেন জাইমা রহমান

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:৩৬ পিএম । আপডেটঃ ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:৪৩ পিএম

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মরণোত্তর ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ গ্রহণ করছেন তাঁর নাতনি ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। পদক তুলে দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার, ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন। ছবি: বাসস

জাতীয় জীবনে অপরিসীম ত্যাগ ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মরণোত্তর ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’-এ ভূষিত হলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক আবেগঘন পরিবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে দাদুর পক্ষে এই সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা গ্রহণ করেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। দেশের ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫টি প্রতিষ্ঠানকে এ বছর এই রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত করা হয়।

বিকেল চারটায় অনুষ্ঠানস্থলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আসন গ্রহণ করার পরপরই জাতীয় সংগীতের মূর্ছনায় শুরু হয় মূল আনুষ্ঠানিকতা। পুরস্কার প্রদানের শুরুতেই নাম ঘোষিত হয় বেগম খালেদা জিয়ার। স্বাধীনতা, গণতন্ত্রের সুরক্ষা ও নারীশিক্ষাসহ দেশ গঠনে তাঁর অসামান্য ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হলে মিলনায়তনে এক গাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নাতনি জাইমা রহমান যখন মঞ্চে উঠে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বর্ণপদক ও সম্মাননাপত্র গ্রহণ করেন, তখন উপস্থিত অতিথিদের করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে মিলনায়তন। এ সময় দর্শক সারিতে উপস্থিত খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্রবধূ জুবাইদা রহমান ও বোন সেলিমা ইসলামকে আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায়।

বেগম খালেদা জিয়া ছাড়াও এ বছর মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন আরও ছয়জন কৃতী সন্তান। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল, সাহিত্যে ড. আশরাফ সিদ্দিকী, সমাজসেবায় ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও মাহেরীন চৌধুরী, সংস্কৃতিতে বশীর আহমেদ এবং জনপ্রশাসনে কাজী ফজলুর রহমানের পরিবার প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পদক গ্রহণ করেন।

এছাড়া জীবদ্দশায় এ সম্মাননা গ্রহণ করেছেন এ কে এম হানিফ (হানিফ সংকেত), জোবেরা রহমান লিনু, আবদুল মুকিত মজুমদার বাবুসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল আটজন ব্যক্তিত্ব। প্রাতিষ্ঠানিক ক্যাটাগরিতে মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, চিকিৎসাবিদ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং জনসেবায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রসহ পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে এই গৌরবোজ্জ্বল পদক প্রদান করা হয়।

১৯৭৭ সাল থেকে প্রবর্তিত এই স্বাধীনতা পুরস্কার বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা হিসেবে বিবেচিত। পদকপ্রাপ্ত প্রত্যেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ১৮ ক্যারেটের ৫০ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণপদক, তিন লাখ টাকা ও একটি সম্মাননাপত্র প্রদান করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিচারপতি ও তিন বাহিনীর প্রধানগণ।

বেগম খালেদা জিয়ার এই মরণোত্তর স্বীকৃতি কেবল একজন রাজনীতিকের মূল্যায়ন নয়, বরং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের এক দীর্ঘ ইতিহাসের স্বীকৃতি। সর্বোচ্চ এই বেসামরিক সম্মাননা প্রদানের মাধ্যমে রাষ্ট্র আজ সেইসব বীর সন্তানদের শ্রদ্ধা জানালো, যাঁরা মেধা, শ্রম ও দেশপ্রেম দিয়ে লাল-সবুজের পতাকাকে বিশ্বদরবারে সমুন্নত করেছেন। এই সম্মাননা আগামীর প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করবে এবং একটি সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার পথে অনুপ্রেরণা যোগাবে।


তথ্যসূত্র: বাসস

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.