× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

পুলিশের বিরুদ্ধে পুলিশ অপহরণ

১ কোটি ৪২ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ে অতিরিক্ত এসপি বরখাস্তের সুপারিশ

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:০৪ পিএম । আপডেটঃ ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:০৪ পিএম

উত্তরা আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) সদর দপ্তরে কর্মরত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কায়সার রিজভী কোরায়েশী। ছবি: সংগৃহীত

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে নৈতিক স্খলন ও দুর্নীতির এক নজিরবিহীন চিত্র সামনে এসেছে। পুলিশের একজন উপ-পরিদর্শককে (এসআই) অপহরণ করে তাঁর স্ত্রীর কাছ থেকে ১ কোটি ৪২ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কায়সার রিজভী কোরায়েশীকে চাকরি থেকে বরখাস্তের সুপারিশ করা হয়েছে। দীর্ঘ ছয় বছর পর বিভাগীয় মামলার তদন্তে এই চাঞ্চল্যকর অপরাধের সত্যতা মিলেছে। একই সাথে তাঁর দলের আরও পাঁচ সদস্যকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তির আওতায় আনার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।

ঘটনার সূত্রপাত ২০২০ সালে। সিআইডির তৎকালীন এসআই আকসাদুদ-জামানকে মালিবাগ এলাকা থেকে অপহরণ করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যান তৎকালীন এডিসি কায়সার রিজভী কোরায়েশী ও তাঁর দল। সেখানে অভিযোগ থেকে রেহাই দেওয়ার নামে দুই কোটি টাকা দাবি করা হয়। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁস হওয়া একটি অডিওতে আকসাদুদের স্ত্রী তাহমিনা ইয়াসমিনকে বলতে শোনা যায়, “১ কোটি ২৮ লাখ তো নিছেন আপনারা সবাই। আপনাকে ব্যক্তিগতভাবে ১৪ লাখ দিছি না?” এই অডিও কথোপকথনই মূলত কায়সার রিজভীর দুর্নীতির অকাট্য প্রমাণ হিসেবে কাজ করেছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের উপকমিশনার দেওয়ান জালাল উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে পরিচালিত তদন্তে কায়সার কোরায়েশীর বিরুদ্ধে অদক্ষতা, অসদাচরণ ও দুর্নীতিপরায়ণতার প্রমাণ মিলেছে। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তাঁকে বরখাস্তের সুপারিশ করা হয়েছে।

দলের অন্য সদস্যদের মধ্যে পরিদর্শক জাহিদুর রহমান ও মিজানুর রহমানের পদোন্নতি এক বছরের জন্য বন্ধ রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া এসআই মাসুদুল ইসলাম, এএসআই প্রকাশ চন্দ্র গুহ, জুলহাস মিয়া এবং কনস্টেবল মাসুদ রানার বেতন কাটার মতো লঘুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের মতো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধে কেবল বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ নিয়ে আইনি মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, “অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় একটি ফৌজদারি অপরাধ, যার সাজা জেল। কিন্তু তা না করে কেবল বিভাগীয় মামলা করা পুলিশ কর্মকর্তাদের বাঁচিয়ে দেওয়ার একটি অপচেষ্টা মাত্র।” যদিও আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সম্প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের কেবল চাকরি যাবে না, বরং মামলার মুখোমুখি হতে হবে।

২০২০ সালের ১৯ অক্টোবর দুবাইপ্রবাসী রোমান মিয়াকে ডিবি পরিচয়ে অপহরণ ও অর্থ ছিনতাইয়ের একটি মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ছিলেন কায়সার কোরায়েশী। ওই মামলার সূত্র ধরেই সিআইডি কর্মকর্তা আকসাদুদ-জামানকে ফাঁসানো ও পরবর্তীতে অপহরণের নাটক সাজানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। বর্তমানে আকসাদুদ-জামান নিজেও ডাকাতি মামলায় অভিযুক্ত হয়ে চাকরিচ্যুত ও জামিনে রয়েছেন।

রক্ষক যখন ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, তখন তা কেবল একটি বিভাগীয় অপরাধ হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং এটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থার সংকট তৈরি করে। কায়সার রিজভী কোরায়শীর বিরুদ্ধে গৃহীত ব্যবস্থা কতটুকু কার্যকর হবে, তা এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তবে কেবল চাকরি থেকে বরখাস্ত নয়, বরং ফৌজদারি আইনে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা না গেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে এ ধরনের ‘পেশাদার অপরাধী’ চক্রের বিস্তার রোধ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.