হাসপাতালের বিশেষায়িত ওয়ার্ডে হামে আক্রান্ত এক শিশুকে সেবা দিচ্ছেন নার্স। ১৩ এপ্রিল, ২০২৬। ফাইল ছবি
দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের সংক্রমণ। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে দেশে আরও সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সরকারি তথ্যমতে, গত এক মাসে এই সংক্রামক ব্যাধিতে মৃতের সংখ্যা ১৮০ ছাড়িয়েছে। সংক্রমণের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে ঢাকা বিভাগে, যেখানে গত এক দিনে সর্বোচ্চ রোগী শনাক্ত ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ নিয়মিত বুলেটিনে এই উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১২ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে ১৩ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত মৃত সাত শিশুর মধ্যে দুইজনের শরীরে হামের ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। বাকি পাঁচজন মারা গেছে হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে। মৃতদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ছয়জন এবং রাজশাহী বিভাগে একজন রয়েছেন।
এই সময়ের মধ্যে সারা দেশে নতুন করে ১ হাজার ৩৭১ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে, যার মধ্যে ৬১৫ জনই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ৭২৯ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। তবে আশার কথা হলো, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৭১৩ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে মোট ৩০ জন শিশুর মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা এর চেয়ে কয়েকগুণ বেশি—প্রায় ১৫৬ জন। এই এক মাসে মোট ১৭ হাজার ২৪ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েছে, যাদের মধ্যে ২ হাজার ৭২১ জনের শরীরে রোগটি আনুষ্ঠানিকভাবে শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে।
পরিসংখ্যান বলছে, সংক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে ঢাকা বিভাগ। গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হওয়া ৮২ জন রোগীর মধ্যে ৭৬ জনই ঢাকার। এছাড়া রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগেও সংক্রমণের বিস্তার লক্ষ্য করা গেছে। বিপরীতে রংপুর ও ময়মনসিংহে আক্রান্তের হার তুলনামূলক কম। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ব্যাধি যা মূলত টিকা না নেওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।
হামের এই ক্রমবর্ধমান বিস্তার রোধে দ্রুত টিকাদান কর্মসূচি জোরদার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। প্রতিটি মৃত্যুই কেবল একটি সংখ্যা নয়, বরং একটি পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি এবং আমাদের জনস্বাস্থ্য কাঠামোর জন্য এক সতর্কবার্তা। সময়মতো চিকিৎসা ও টিকার আওতা বাড়ানো না গেলে এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। শিশুদের সুরক্ষায় রাষ্ট্র ও অভিভাবক উভয়কেই এখন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকতে হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
