× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ইরান-ইসরায়েল সংকট থেকে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা শিক্ষা

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪০ পিএম । আপডেটঃ ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪০ পিএম

পরিবর্তনশীল বিশ্ব পরিস্থিতিতে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন ও নতুন প্রতিরক্ষা কৌশলের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিশ্লেষকদের অভিমত। ছবি: সংগৃহীত

পরিবর্তনশীল বিশ্বব্যবস্থায় যুদ্ধের প্রথাগত সংজ্ঞাকে ছাপিয়ে এখন প্রাধান্য পাচ্ছে প্রযুক্তি ও কৌশলগত বুদ্ধিমত্তা। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা কেবল একটি আঞ্চলিক সংঘাত নয়, বরং এটি আধুনিক সামরিক বিজ্ঞানের এক নতুন পাঠশালা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল পুনর্মূল্যায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় সামরিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

নিউজ ২৪-এর বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠান ‘মুক্তির কথা’-এ বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, প্রথাগত বিশাল স্থল অভিযানের দিন ফুরিয়ে আসছে। ড্রোন স্ট্রাইক, প্রক্সি ওয়ারফেয়ার এবং নিখুঁত নিশানার মিসাইল এখন যুদ্ধের ভাগ্য নির্ধারণী শক্তি।

আলোচনায় ইরান-ইসরায়েল সম্পর্কের এক বিস্ময়কর ঐতিহাসিক তথ্য উঠে আসে। বর্তমানের চরম বৈরিতা থাকলেও, ১৯৮১ সালে ইরাকের ওচিরাক পরমাণু চুল্লিতে হামলার সময় খামেনি আমলের ইরান ইসরায়েলকে গোপন গোয়েন্দা তথ্য ও এফ-৪ বিমানের মাধ্যমে ‘রেকি’ তথ্য সরবরাহ করেছিল। অথচ চার দশক পর সেই সমীকরণ আজ সম্পূর্ণ বিপরীত।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান বর্তমানে প্রথাগত বা কনভেনশনাল যুদ্ধের পথে না গিয়ে এক ভিন্নধর্মী প্রতিরক্ষা কৌশল গ্রহণ করেছে। আমেরিকাকে বিশ্বমঞ্চে চ্যালেঞ্জ করার মতো সক্ষমতা অর্জনে ইরান যে ছায়া যুদ্ধ এবং উন্নত প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়েছে, তা আন্তর্জাতিক সামরিক মহলে এক বিশেষ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব এবং বিস্তৃত সমুদ্রসীমার কারণে বাংলাদেশের নিরাপত্তা ঝুঁকিগুলোও দিন দিন জটিল হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রচলিত সামরিক কৌশলের পরিবর্তে একটি আধুনিক ও সময়োপযোগী ‘প্রতিরক্ষা ডকট্রিন’ প্রণয়ন করা এখন সময়ের দাবি।

তাদের মতে, কেবল সৈন্য বা কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত বীরত্ব দিয়ে আধুনিক যুদ্ধ জয় সম্ভব নয়। যুদ্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভিত্তি হতে হবে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সংসদীয় বলিষ্ঠতা। তারা জোর দিয়ে বলেন, একটি দেশের সামরিক শক্তির মূল উৎস হলো তার রাজনৈতিক কাঠামো ও জনগণের ম্যান্ডেট।

বর্তমান রাজনৈতিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিকায়নের কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার মুখে যেকোনো বহিঃশত্রুর মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রযুক্তিনির্ভর সমরাস্ত্র অর্জন এবং সাইবার যুদ্ধের মতো নতুন ফ্রন্টগুলোতে সামরিক বাহিনীকে দক্ষ করে তোলাই হবে আগামীর প্রধান চ্যালেঞ্জ।

ইরান ও ইসরায়েলের এই ছায়াযুদ্ধ প্রমাণ করে যে, কৌশলগতভাবে পিছিয়ে থাকলে বিশাল সেনাবাহিনীও অকার্যকর হয়ে পড়তে পারে। বাংলাদেশের মতো উদীয়মান শক্তির জন্য শিক্ষাটি স্পষ্ট—প্রতিরক্ষা কেবল সীমান্তের পাহারায় নয়, বরং উন্নত প্রযুক্তি, সঠিক গোয়েন্দা তথ্য এবং শক্তিশালী রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমন্বয়ে গড়ে তোলা দুর্ভেদ্য এক ঢাল। বিশ্বশান্তির প্রত্যাশায় থেকেও নিজের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সদা প্রস্তুত থাকাই হবে আধুনিক বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা দর্শনের মূলমন্ত্র।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.