× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

সম্পর্ক পুনর্গঠনের ‘লিটমাস টেস্ট’ গঙ্গা চুক্তি: এনডিটিভিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

১১ এপ্রিল ২০২৬, ২২:৪৮ পিএম । আপডেটঃ ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২২:৪৯ পিএম

ভারতের এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গঙ্গার পানিবণ্টন ও ভিসা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। ছবি: এনডিটিভি/সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেছেন, গঙ্গা নদীর পানিবণ্টনে নতুন চুক্তি হবে দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার প্রথম এবং প্রধান পরীক্ষা। ন্যায্যতা ও জলবায়ু সহনশীলতার ওপর ভিত্তি করে এই চুক্তি সম্পাদিত হওয়া জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি কেবল একটি চুক্তি নয়, বরং বাংলাদেশের ‘বাঁচা-মরার’ প্রশ্ন।

শনিবার (১১ এপ্রিল) ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। মরিশাসের রাজধানী পোর্ট লুইসে অনুষ্ঠিত ‘ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্স’ চলাকালে সাক্ষাৎকারটি ধারণ করা হয়।

১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রাপ্যতা নিয়ে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত অভিযোগের প্রেক্ষাপটে খলিলুর রহমান বলেন, “আমাদের সভ্যতা ও জীবিকা গঙ্গার পানির ওপর নির্ভরশীল। বিদ্যমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে আসায় আমরা এমন একটি সংশোধিত চুক্তি দেখতে চাই, যা মানুষের জরুরি প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম হবে।” তিনি দ্ব্যার্থহীন কণ্ঠে জানান, যেহেতু দুই দেশই সম্পর্ক পুনর্গঠনে আগ্রহী, তাই গঙ্গার পানিবণ্টনই হবে ঢাকা-দিল্লি আস্থার প্রথম লিটমাস টেস্ট।

বিগত দেড় বছর ধরে দুই দেশের মধ্যে ভিসাদান সীমিত থাকায় তৈরি হওয়া মানবিক সংকটের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার তিন দিনের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সব ধরনের ভিসা উন্মুক্ত করে দিয়েছে। ভারতও একই পথে হাঁটবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, “জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগই সম্পর্কের ভিত্তি। বিশেষ করে চিকিৎসা ভিসার সংকট বিষয়টিকে মানবিক বিপর্যয়ে রূপ দিয়েছিল। মানুষ যখন বাধ্য হয়ে ব্যাংকক বা সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছে, তখন দুই দেশের সম্পর্কের দীর্ঘদিনের সুদৃঢ় সুতাটি আলগা হয়ে যায়।” আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ভারত গুরুতর অসুস্থ ও ব্যবসায়ীদের জন্য ভিসা সহজ করবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশের ওপর চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে ভারতের উদ্বেগের বিষয়ে খলিলুর রহমান সোজাসাপ্টা উত্তর দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিদেশনীতি কারো ক্ষতির বিনিময়ে নির্ধারিত হয় না। তার ভাষায়, “চীনের সঙ্গে সহযোগিতা বা ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য—সবই বাজারভিত্তিক বাস্তবতার ওপর নির্ভরশীল। আমরা সেখানে যাই, যেখানে ভালো মূল্য পাই। চলুন, এসব অযৌক্তিক উদ্বেগ দূরে সরিয়ে একপক্ষের লাভের সংকীর্ণ দৃষ্টিকোণ থেকে সম্পর্ক দেখা বন্ধ করি।”

গত ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনে দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকলেও, গত ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর বরফ গলতে শুরু করেছে। খলিলুর রহমানের সাম্প্রতিক দিল্লি সফর এবং জয়শঙ্কর-দোভালদের সঙ্গে বৈঠক সেই উষ্ণতারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ এখন কেবল কূটনৈতিক শিষ্টাচারের ওপর নয়, বরং গঙ্গার পানির হিস্যা এবং মানুষের যাতায়াত সহজ করার ওপর নির্ভর করছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সাক্ষাৎকার স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশ যেমন অটল, তেমনি প্রতিবেশীর সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক পুনরুদ্ধারেও সমান আগ্রহী। গঙ্গা চুক্তির ভবিষ্যৎই বলে দেবে, দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী বন্ধুত্বের কোন নতুন দিগন্তে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.