ঐতিহাসিক ২৪টি বিল পাশের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের সম্মান ও রাষ্ট্র সংস্কারের পথে বড় অগ্রগতি সাধিত হলো। ছবি: সংগৃহীত
নতুন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এক অবিস্মরণীয় দিন অতিক্রম করল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রেখে যাওয়া সংস্কার উদ্যোগগুলোকে আইনি ভিত্তি দিতে চলতি অধিবেশনের মাত্র ১৩ কার্যদিবসে রেকর্ড ৯১টি বিল পাশ হয়েছে। আজ শনিবার এক দিনেই সংসদীয় অনুমোদন পেয়েছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল’ ও ‘শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের পুনর্বাসন বিল’-সহ গুরুত্বপূর্ণ ২৪টি আইন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আজকের অধিবেশনে সকাল থেকেই ছিল কর্মব্যস্ততা। সংসদীয় রীতি অনুযায়ী, বিলগুলোর ওপর কোনো বড় ধরনের সংশোধনী প্রস্তাব না থাকায় এবং জনস্বার্থের গুরুত্ব বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের উত্থাপিত বিলগুলো সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হয়। আজকের ২৪টিসহ চলতি অধিবেশনে এখন পর্যন্ত মোট ৯১টি বিল পাশের মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কারের আইনি পথ প্রশস্ত হলো।
অধিবেশনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করা দুটি বিল। সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করলে সরকারি দলের সদস্য আনিছুর রহমানের তিনটি সংশোধনীসহ তা গৃহীত হয়। অন্যদিকে, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন বিল, ২০২৬’ পেশ করলে আবেগঘন পরিবেশে তা পাশ হয়। এই আইনের মাধ্যমে গত বছরের অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা ও পুনর্বাসন আইনি কাঠামোর আওতায় এলো।
আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন বিল, ২০২৬’ পাশের সময় সংসদে কিছুটা উত্তাপ লক্ষ্য করা যায়। বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সদস্য সাইফুল ইসলাম মিলন বিলটি জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব করলে স্পিকার তা ভোটে দেন। কণ্ঠভোটে প্রস্তাবটি নাকচ হওয়ার পর বিলটি পাশ হয়। এছাড়াও ‘আমানত সুরক্ষা বিল’ ও ‘বাংলাদেশ ব্যাংক (সংশোধন) বিল’ পাশের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতে জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম উত্থাপিত ‘সাইবার সুরক্ষা বিল, ২০২৬’ পাশের মাধ্যমে বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রেতাত্মা মুক্ত করে নাগরিক অধিকার সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ‘জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা বিল’ পাসের মাধ্যমে ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব রক্ষার পথে এক ধাপ এগিয়ে গেল দেশ।
আঞ্চলিক উন্নয়নের লক্ষে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরের উত্থাপিত নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সংক্রান্ত পাঁচটি পৃথক বিল পাশ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ‘মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল’ উত্থাপন করলে তাও সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হয়।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের ভাগ্য নির্ধারণে গঠিত বিশেষ কমিটি ৯৮টি অধ্যাদেশ হুবহু এবং ১৫টি সংশোধনীসহ আইনের রূপ দেওয়ার সুপারিশ করেছিল। বাকিগুলোর মধ্যে ১৬টি আরও শক্তিশালী করে নতুন বিল আকারে আনার প্রক্রিয়া চলছে।
অল্প সময়ে এত বিপুল সংখ্যক বিল পাশ হওয়া যেমন নজিরবিহীন, তেমনি এটি বর্তমান সংসদের সংস্কারের আকাঙ্ক্ষাকেই প্রতিফলিত করে। রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতিটি স্তরে সংস্কারের যে ম্যান্ডেট নিয়ে এই সংসদ গঠিত হয়েছে, আইনের এই জোয়ার সেই লক্ষ্যপূরণেরই প্রাথমিক ধাপ। তবে এই আইনগুলোর যথাযথ প্রয়োগ এবং এর সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছানোই হবে আগামী দিনের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
বিষয় : অন্তর্বর্তী সরকার জাতীয় সংসদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
