× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ট্রিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যে নতুন বাংলাদেশের কঠিন পথচলা: আমির খসরু

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

১০ এপ্রিল ২০২৬, ১৪:৫০ পিএম । আপডেটঃ ১০ এপ্রিল ২০২৬, ১৫:১২ পিএম

জাতীয় সংসদে অর্থনীতির শ্বেতপত্র সদৃশ বিবৃতি দিচ্ছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

ষোল বছরের ‘ফ্যাসিবাদী লুণ্ঠন’ আর ‘সীমিত প্রবৃদ্ধির’ ভগ্নস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতির বর্তমান চিত্র দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আজ শুক্রবার জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, অর্থনীতির প্রায় প্রতিটি সূচকই এখন চরম চাপের মুখে। তবে এই ধ্বংসস্তূপ থেকেই ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ‘ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে’ রূপান্তরের এক উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছে বর্তমান সরকার।

সকাল ১০টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হলে দিনের কার্যসূচির প্রথমেই মন্ত্রী এই তথ্যবহুল ও বিশ্লেষণধর্মী বিবৃতি প্রদান করেন। তাঁর বক্তব্যে বিগত দেড় দশকের অর্থনৈতিক অবক্ষয়, মুদ্রাস্ফীতির কশাঘাত এবং ব্যাংক খাতের ‘দেউলিয়া’ দশার এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে।

মন্ত্রী তাঁর বিবৃতিতে ২০০৫-০৬ অর্থবছরের (বিএনপির শেষ সময়) সাথে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান:

  • প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি: ২০০৫-০৬ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৬.৭৮%, যা বর্তমানে ৪.২২%-এ নেমেছে। বিপরীতে মূল্যস্ফীতি ৭.১৭% থেকে লাফিয়ে ৯.৭৩%-এ পৌঁছেছে।


  • টাকার মান: গত ১৫ বছরে টাকার মান অর্ধেক হয়ে গেছে। ২০০৬ সালে প্রতি ডলারের বিনিময় হার ৬৮.২ টাকা থাকলেও বর্তমানে তা ১২১ টাকায় দাঁড়িয়েছে।


  • ব্যাংক খাতের সংকট: খেলাপি ঋণের হার ২০ শতাংশ ছাড়িয়েছে (প্রকৃতপক্ষে ৩০ শতাংশের বেশি)। মন্ত্রী আক্ষেপ করে বলেন, "অনেক ব্যাংক এখন কার্যত দেউলিয়া অবস্থায় চলছে।"

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এসেছে কর্মসংস্থানের এক হতাশাজনক চিত্র। তিনি একে ‘জবলেস গ্রোথ’ বা কর্মসৃজনবিহীন প্রবৃদ্ধি হিসেবে অভিহিত করেন। শিল্প ও সেবা খাতে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান তৈরি না হওয়ায় তরুণরা কৃষিতে ঝুঁকছে, ফলে কৃষিতে ‘ছদ্ম বেকারত্ব’ তীব্রতর হচ্ছে। জাতীয় আয়ে কৃষির অবদান মাত্র ১১.৬% হলেও দেশের ৪১% মানুষ এই খাতের ওপর নির্ভরশীল—যা শ্রমবাজারের গভীর কাঠামোগত দুর্বলতাকেই স্পষ্ট করে।

বিগত সরকারের ‘মেগা প্রজেক্ট’ ও ‘ভুল নীতির’ কারণে সরকারি ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয় গত ১৫ বছরে ১৩ গুণ বেড়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। ২০০৬ সালে যেখানে সুদ বাবদ ব্যয় ছিল ৮৫ বিলিয়ন টাকা, ২০২৪ সালে তা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৪৭ বিলিয়ন টাকায়। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারকে অতিরিক্ত ৩৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হতে পারে, যা বাজেটের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করছে।

বিরাজমান অন্ধকার পরিস্থিতির মধ্যেও মন্ত্রী একটি আশার আলো দেখিয়েছেন। তিনি জানান, সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের দর্শন নিয়ে কাজ করছে। এর জন্য সুশাসন প্রতিষ্ঠা, পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা এবং পরিসংখ্যান ব্যবস্থাকে প্রশ্নাতীত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের কাজও এই সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শুরু হয়েছে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর এই বিবৃতি কেবল একটি পরিসংখ্যানের বয়ান নয়, বরং এটি একটি বিধ্বস্ত অর্থনীতির ‘পোস্টমর্টেম রিপোর্ট’। জনগণের আস্থা পুনর্গঠনই এখন নতুন সরকারের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। ইতিহাসের এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, সীমাহীন লুটপাটের ক্ষত সারিয়ে বাংলাদেশ কীভাবে ট্রিলিয়ন ডলারের পথে ধাবিত হয়, তার ওপরই নির্ভর করছে একটি বৈষম্যহীন ও মর্যাদাশীল রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.