সংসদ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে আয়োজিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিদ্যমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় একগুচ্ছ কঠোর ও নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার। এখন থেকে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের অনুকূলে বরাদ্দকৃত মাসিক জ্বালানির ৩০ শতাংশ কর্তন করা হবে। একই সাথে সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি ক্রয়ের জন্য বহুল আলোচিত সুদমুক্ত ঋণ সুবিধাও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। শুক্রবার সরকারি এক তথ্য বিবরণীতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির ব্রিফিংয়ের বরাত দিয়ে এই ব্যয় সংকোচন নীতির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।
তথ্য বিবরণী অনুযায়ী, বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। তবে এই কৃচ্ছ্রসাধন নীতি যেন জাতীয় উৎপাদনে প্রভাব না ফেলে, সেজন্য কৃষিজমিতে সেচ, সারের উৎপাদন ও বিতরণ এবং শিল্প খাতের জ্বালানি সরবরাহকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সাশ্রয়ী নীতির অংশ হিসেবে আগামী তিন মাস দেশব্যাপী সব ধরনের আলোকসজ্জা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়কে বিশেষ প্রচার কার্যক্রম চালানোর নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারি ও বেসরকারি অফিসের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দাপ্তরিক কার্যক্রম বিকেল ৪টা পর্যন্ত চললেও গ্রাহক সেবা মিলবে সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত। জরুরি সেবা ব্যতীত সব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও বিপণিবিতান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ করার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও অনুরূপ পরিকল্পনা গ্রহণে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে পরবর্তী বৈঠকে প্রস্তাব জমা দিতে বলা হয়েছে।
মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারি অর্থায়নে সব ধরনের বৈদেশিক প্রশিক্ষণ আপাতত বন্ধ থাকবে। অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণের ব্যয় ৫০ শতাংশ এবং সভা-সেমিনারের আপ্যায়ন ব্যয় ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাসের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া:
জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরতা কমাতে পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে বিশেষ ছাড় দিয়েছে সরকার। নিবন্ধিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য শুল্কমুক্ত এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে মাত্র ২০ শতাংশ শুল্কে ইলেকট্রিক বাস আমদানির প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। একই সাথে রাস্তা থেকে কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী ও মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন ক্রমান্বয়ে অপসারণের কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে জ্বালানি ও বিলাসদ্রব্য ব্যবহারে এই কৃচ্ছ্রসাধন সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা দেবে। তবে এসব সিদ্ধান্তের মাঠ পর্যায়ের সফল বাস্তবায়নই নির্ধারণ করবে আসন্ন সংকট কত দ্রুত কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
