× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

জ্বালানি সাশ্রয়ে নতুন সূচি: অফিস চলবে ৪টা পর্যন্ত, ৬টায় বন্ধ হবে দোকানপাট

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১৩ এএম । আপডেটঃ ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১৪ এএম

সংসদ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠক। ছবি: প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ফেসবুক পেজ

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের অভিঘাত মোকাবিলা এবং অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারি অফিসের সময়সূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে সরকারি অফিস চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সাশ্রয় নিশ্চিত করতে সারা দেশের দোকানপাট, বিপণিবিতান ও শপিং মল সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ করার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার এক জরুরি বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে রাত পৌনে ৯টায় শুরু হওয়া এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি চলে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে। বৈঠক শেষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানান, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে অস্থিরতার কারণে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে মিতব্যয়ী হওয়ার বিকল্প নেই। বর্তমানের সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টার কর্মঘণ্টা এক ঘণ্টা কমিয়ে বিকেল ৪টা করার মাধ্যমে বড় অঙ্কের বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে বলে সরকার আশা করছে।

মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের আগে আজ সকালে বাংলাদেশ দোকান মালিক ব্যবসায়ী সমিতি রাত ৮টার মধ্যে বিপণিবিতান বন্ধের ঘোষণা দিলেও সরকার আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে জনস্বার্থ বিবেচনা করে হোটেল, ফার্মেসি, কাঁচাবাজার এবং জরুরি প্রয়োজনীয় সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই সময়সীমার আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিশেষ তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির অস্থিতিশীলতা যখন উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে, তখন সরকারের এই ‘সাশ্রয়ী নীতি’ একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। অফিসের সময় কমানোর ফলে কেবল সরকারি ভবনের বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে না, বরং যানজট নিরসন এবং কর্মীদের কর্মদক্ষতা বজায় রাখতেও এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্তে স্পষ্ট যে, দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার এখন কৃচ্ছ্রসাধন এবং কাঠামোগত সংস্কারের পথে হাঁটছে।

জ্বালানি সংকটের এই বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে নতুন সময়সূচি কেবল একটি প্রশাসনিক আদেশ নয়, বরং পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার একটি জাতীয় প্রচেষ্টা। সন্ধ্যা নামার আগেই বিপণিবিতান বন্ধ এবং অফিসের কর্মঘণ্টা পুনর্বিন্যাসের এই প্রভাব পড়বে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনযাত্রায়। তবে জাতীয় স্বার্থে নাগরিক ও ব্যবসায়ীদের এই কৃচ্ছ্রসাধন প্রক্রিয়ায় স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই পারে আসন্ন সংকটকে সফলভাবে পাড়ি দিতে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.