বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আব্দুল জলিল মন্ডলকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর সবুজবাগ এলাকা থেকে তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় এই হাই-প্রোফাইল সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ডিবি কর্তৃপক্ষ।
সোমবার রাত ১১টার দিকে ডিবির যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানান, আব্দুল জলিল মন্ডলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে ইস্যু করা একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে অন্য কোনো সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি মামলা বা অভিযোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
আব্দুল জলিল মন্ডল তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে পুলিশ বাহিনীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও নীতিনির্ধারণী পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাবনা জেলায় জন্ম নেওয়া এই কর্মকর্তা এক সময় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। এছাড়া তিনি র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
বিশেষ করে ২০১৩ সালে রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনের সময় ডিএমপির শীর্ষ পর্যায়ে তাঁর ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা ছিল।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আওতায় সাবেক একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তার গ্রেপ্তার হওয়াকে আইনি বিশেষজ্ঞরা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানা অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়া এখন নতুন গতি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
"আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে এবং ট্রাইব্যুনালের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা এই গ্রেপ্তার নিশ্চিত করেছি। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সম্পন্ন করা হবে।"
— মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম, যুগ্ম কমিশনার, ডিবি।
পরিশেষে, আব্দুল জলিল মন্ডলের এই গ্রেপ্তার দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচ্চপদে অতীতে আসীন কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার একটি জোরালো সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। আজ মঙ্গলবার তাঁকে সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।