× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

সংবিধান সংস্কার নিয়ে উত্তাল সংসদ

মুলতবি প্রস্তাব ঘিরে সরকার ও বিরোধী দলের নজিরবিহীন হট্টগোল

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

৩০ মার্চ ২০২৬, ০৯:১৯ এএম । আপডেটঃ ৩০ মার্চ ২০২৬, ০৯:২০ এএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের উত্তপ্ত অধিবেশন। ফাইল ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে আজ এক নজিরবিহীন উত্তাপ ও রাজনৈতিক সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন ও এর অধিবেশন আহ্বানের দাবিতে বিরোধীদলীয় নেতার আনা একটি মুলতবি প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংসদ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের বাগ্‌বিতণ্ডা, হইচই আর পাল্টাপাল্টি যুক্তিতে কয়েক ঘণ্টার জন্য থমকে যায় সংসদের স্বাভাবিক কার্যক্রম। দীর্ঘ উত্তেজনার পর অবশেষে আগামী মঙ্গলবার এই বিষয়ে দুই ঘণ্টার বিশেষ আলোচনার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন ডেপুটি স্পিকার।

ঈদের ছুটির পর আজ রোববার সংসদের অধিবেশন পুনরায় শুরু হলে শুরুতেই নাটকীয় মোড় নেয়। প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষ হওয়ার পরপরই জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান একটি ‘মুলতবি প্রস্তাব’ উত্থাপন করেন। তাঁর প্রস্তাবে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের গণভোটের মাধ্যমে অনুমোদিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নে যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা ছিল, তা নিয়ে বর্তমান অচলাবস্থা নিরসন জরুরি। বিএনপি ও তার মিত্ররা শপথ না নেওয়ায় পরিষদটি গঠিত না হওয়াকে তিনি ‘জাতির প্রত্যাশাকে পাশ কাটানো’ হিসেবে অভিহিত করেন।

প্রস্তাবটি উত্থাপনের সাথে সাথেই সরকারি দলের পক্ষ থেকে আপত্তির সুর শোনা যায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দাবি করেন, এই প্রস্তাবটি কার্যপ্রণালি বিধির ৬২ অনুযায়ী হয়নি এবং এটি ‘বৈধ’ নয়। তিনি যুক্তি দেন, সংবিধান সংশোধন বা সংস্কার কেবল আইন প্রণয়নের মাধ্যমেই সম্ভব, তাই এটি মুলতবি প্রস্তাব হিসেবে আলোচনার অযোগ্য।

অন্যদিকে, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম কড়া ভাষায় বলেন, “সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি দেশে একটি গণভোটও হয়েছে। আপনারা কি ভুলে যাচ্ছেন এই সংসদ কীভাবে গঠিত হয়েছে? এটি এখন সবচেয়ে বড় জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়।”

আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান অবশ্য প্রস্তাবটিকে ‘যৌক্তিক ও সময়োপযোগী’ বলে অভিহিত করেন। তবে তিনি শর্ত দেন যে, আলোচনার সময় প্রতিটি সংসদ সদস্যের টেবিলে সংবিধান, জুলাই সনদ এবং প্রয়োজনে মদিনা সনদ ও বিশ্ববিখ্যাত রাষ্ট্রচিন্তাবিদদের ‘সোশ্যাল কন্ট্রাক্ট থিওরি’র বই থাকতে হবে।

বিতর্কের এক পর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন প্রস্তাবটির বৈধতা নিয়ে পুনরায় প্রশ্ন তোলেন, তখন বিরোধী দলের সদস্যরা নিজ আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। সরকারি দলের সদস্যরাও পাল্টা হইচই শুরু করলে সংসদে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্পিকার বারবার সদস্যদের শান্ত হওয়ার অনুরোধ জানালেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসছিল না।

অবশেষে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল তাঁর চূড়ান্ত রুলিং দেন। তিনি ঘোষণা করেন, আগামী ৩১ মার্চ মঙ্গলবার দিনের শেষ দুই ঘণ্টা এই মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনা হবে। স্পিকারের এই ঘোষণার পরও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক ছাড়া কথা বলতে থাকলে বিরোধী দল আবারও বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান তখন ক্ষোভের সাথে বলেন, “স্পিকার রুলিং দেওয়ার পর এ বিষয়ে আর কোনো কথা চলতে পারে না।”

আজকের এই সংসদীয় বিতর্ক স্পষ্ট করে দিল যে, সংবিধান সংস্কার ইস্যুটি কেবল আইনি কোনো প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি দেশের প্রধান রাজনৈতিক পক্ষগুলোর মধ্যে গভীর আস্থার সংকটের বহিঃপ্রকাশ। একদিকে জুলাই সনদের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নের চাপ, অন্যদিকে সংসদের ভেতরে বিরোধী ও সরকারি দলের অনড় অবস্থান—সব মিলিয়ে মঙ্গলবার হতে যাওয়া দুই ঘণ্টার আলোচনাটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক কাঠামোর জন্য অত্যন্ত নির্ণায়ক হয়ে উঠতে পারে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.