× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

৬ দিন পর ভূমধ্যসাগরে উদ্ধার ২১ বাংলাদেশি, নিখোঁজ অন্তত ২২

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

২৯ মার্চ ২০২৬, ০৬:২১ এএম । আপডেটঃ ২৯ মার্চ ২০২৬, ০৬:৫৫ এএম

ভূমধ্যসাগরের বিশাল জলরাশির বুকে ভাসমান জীর্ণ রাবার নৌকা।

নীল জলরাশির অতল গহ্বরে আরও ২২টি প্রাণের সলিল সমাধি আর যমদূতসম ৬টি দিন পার করার পর ভূমধ্যসাগরের বুক থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ২১ জন বাংলাদেশিসহ মোট ২৬ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে। লিবিয়া থেকে গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা করা একটি ইঞ্জিনচালিত রাবার নৌকা থেকে শুক্রবার রাতে তাঁদের উদ্ধার করে ইউরোপীয় কোস্টগার্ড। উদ্ধারকৃতদের বয়ানে উঠে এসেছে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের আখ্যান, যেখানে সামান্য খাবার ও পানির অভাবে চোখের সামনে একের পর এক সঙ্গীকে নিথর হয়ে যেতে দেখেছেন তাঁরা।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২১ মার্চ পূর্ব লিবিয়ার তোব্রুক বন্দর থেকে উন্নত জীবনের স্বপ্নে গ্রিসের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন এই অভিবাসনপ্রত্যাশীরা। কিন্তু মাঝসমুদ্রে দিক হারিয়ে ফেলায় টানা ছয় দিন কোনো খাবার ও পানীয় ছাড়াই ভাসতে থাকে নৌকাটি। গ্রিসের ক্রিট দ্বীপপুঞ্জের ইয়েরাপেত্রা শহর থেকে প্রায় ৫৩ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণে যখন কোস্টগার্ড তাঁদের খুঁজে পায়, তখন নৌকাটি এক মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছিল।

উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ২১ জন বাংলাদেশি ছাড়াও রয়েছেন ৪ জন দক্ষিণ সুদান ও একজন চাদের নাগরিক। এদের মধ্যে একজন নারী ও একটি শিশুও রয়েছে। তবে বেঁচে ফেরা এই ২৬ জনের ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলেও, সমুদ্রের নোনা জলে হারিয়ে গেছেন আরও অন্তত ২২ জন। খাবার ও পানির তীব্র সংকটে তাঁরা মারা যাওয়ার পর মানবপাচারকারীদের নির্দেশে তাঁদের মরদেহ সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হয়।

কোস্টগার্ডের মুখপাত্র জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃতদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে মানবপাচারকারী সন্দেহে দক্ষিণ সুদানের ১৯ ও ২২ বছর বয়সী দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, দালালদের নির্দেশে এবং তাদের নিষ্ঠুরতায় মরদেহগুলো সমুদ্রে ফেলে দিতে বাধ্য করা হয়েছিল। প্রতিকূল আবহাওয়া এবং ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়ায় যাত্রাটি নরকতুল্য হয়ে ওঠে বলে জানিয়েছেন বেঁচে ফেরা ব্যক্তিরা। গ্রিস কর্তৃপক্ষ বর্তমানে এই পাচারচক্রের শিকড় অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভূমধ্যসাগর এখন বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক অভিবাসন রুট। চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি—এই দুই মাসেই সাগরে প্রাণ হারিয়েছেন ৫৫৯ জন। লিবিয়া থেকে ইউরোপে প্রবেশের এই মরণফাঁদে পড়ে প্রতিবছর শত শত বাংলাদেশি যুবক সর্বস্ব হারিয়ে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমাচ্ছেন, যার শেষ পরিণতি হচ্ছে গণকবর কিংবা নিখোঁজ সংবাদ।

তোব্রুক থেকে ক্রিট—এই দীর্ঘ জলপথ কেবল মাইলের ব্যবধান নয়, বরং এটি হয়ে উঠেছে স্বপ্ন আর মৃত্যুর মাঝখানের এক সংকীর্ণ রেখা। যে ২১ জন বাংলাদেশি এখন গ্রিসের উপকূলে আশ্রয়ের প্রতীক্ষায় আছেন, তাঁদের চোখে এখন স্বস্তি নয়, বরং হারিয়ে যাওয়া ২২ জন সহযাত্রীর করুণ মুখগুলোই বারবার ভেসে উঠছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কঠোর নজরদারি এবং দালালচক্রের মূলোৎপাটন ছাড়া ভূমধ্যসাগরের এই রক্তক্ষয়ী উৎসব থামানো সম্ভব নয়। জীবনের চেয়ে জীবিকার মূল্য যখন বেশি হয়ে দাঁড়ায়, তখন এমন ট্র্যাজেডি কেবল পরিসংখ্যান হয়েই থেকে যায়।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.