বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যেই বাংলাদেশের নবগঠিত সরকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ও সংহতি ব্যক্ত করেছে জাতিসংঘ। বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কে সংস্থার সদর দপ্তরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সাথে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দানে বাংলাদেশের অনন্য মানবিক উদারতাকে বিশ্বশান্তির এক বিরল উদাহরণ হিসেবে অভিহিত করে তিনি নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানান।
বৈঠকের শুরুতেই মহাসচিব গুতেরেস বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা ও নবগঠিত সরকারকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। বিশেষ করে ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ যে ‘মানবিক নেতৃত্ব’ প্রদর্শন করেছে, তার উচ্চ প্রশংসা করেন তিনি। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মহাসচিব স্পষ্ট করেছেন যে—সংকট নিরসনে এবং বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা রক্ষায় বিশ্বসংস্থা সবসময় পাশে থাকবে।
আলোচনায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি ও তেল সংকটের বিষয়টি অত্যন্ত জোরালোভাবে উত্থাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন:
- চলমান বৈশ্বিক সংকটের ফলে উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশগুলো অসম চাপের সম্মুখীন হচ্ছে।
- উন্নত বিশ্বের নীতিগত সিদ্ধান্তের প্রভাব সরাসরি দরিদ্র দেশগুলোর সাধারণ মানুষের ওপর পড়ছে।
- জ্বালানি নিরাপত্তার অভাবে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
- মহাসচিব পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই উদ্বেগের সাথে একমত পোষণ করেন এবং একটি ন্যায়সঙ্গত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক ছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে বাংলাদেশ সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ। মহাসচিব অত্যন্ত কৃতজ্ঞতার সাথে এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে গুতেরেসের এই সফর বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের মধ্যকার দীর্ঘমেয়াদী অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করবে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।