দেশের কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে নবপ্রাণের সঞ্চার করতে এক বিশাল কর্মযজ্ঞের সূচনা করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (১৬ মার্চ) দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলা থেকে একযোগে সারা দেশের ৫৩টি খাল পুনঃখনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন তিনি। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম অঙ্গীকার ‘খাল খনন’ কর্মসূচির এই পুনর্জাগরণকে কেন্দ্র করে উত্তরাঞ্চলসহ সারা দেশে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী রাজধানী থেকে বিমানযোগে নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌঁছাবেন এবং সেখান থেকে সড়কপথে দিনাজপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। কাহারোল উপজেলার বলরামপুর সাহাপাড়ায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনের মাধ্যমে তিনি দেশব্যাপী এই কার্যক্রমের সূচনা করবেন। উদ্বোধন শেষে তিনি এক জনসভায় ভাষণ দেবেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়কার সেই ঐতিহাসিক খাল খনন বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করেই এই বৃহৎ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, মৎস্য চাষ ও হাঁস পালনের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে স্বাবলম্বী করা। গত শুক্রবার প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনকালে সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, কেবল সাহাপাড়ার ১২ কিলোমিটার খাল খননের ফলেই প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ সরাসরি সুফল পাবেন। এতে বর্ষায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং বিএডিসির সমন্বিত প্রচেষ্টায় এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে আবেগঘন কিছু মুহূর্তও রয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী দিনাজপুর শহরের ফরিদপুর গোরস্থানে যাবেন। সেখানে তিনি তাঁর মাতামহ (নানা) মো. ইস্কান্দার মজুমদার, মাতামহী (নানি) তৈয়বা মজুমদার এবং খালা খুরশীদ জাহান হকসহ নিকট আত্মীয়দের কবর জিয়ারত করবেন। দিনশেষে তিনি স্থানীয় সুধীজন ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ইফতারে অংশ নেবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার যেমন গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে নজর দিচ্ছে, তেমনি শহীদ জিয়ার আদর্শিক উত্তরাধিকারকেও সামনে নিয়ে আসছে। আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে খালের পাড় রক্ষা ও বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টিও এই প্রকল্পে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।