দেশের কৃষি খাতে আধুনিকায়ন ও প্রান্তিক কৃষকদের সরকারি সেবার আওতায় আনতে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে সরকার। সোমবার (১৬ মার্চ) বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আগামী পহেলা বৈশাখ প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে এই যুগান্তকারী কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষি ভর্তুকি, ঋণ সহায়তা এবং সার-বীজ বিতরণ প্রক্রিয়াকে সরাসরি কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হবে। এই উদ্যোগের ফলে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং প্রকৃত কৃষকরা রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধার সুফল ভোগ করতে পারবেন।
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশীদ এবং প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। কৃষি খাতের এই রূপান্তরকে ডিজিটাল কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করতে বৈঠকে আরও অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। এছাড়াও স্থানীয় সরকার, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা আলোচনায় অংশ নেন।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, বাংলা নববর্ষের শুভক্ষণে পহেলা বৈশাখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কার্ড বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। কৃষি ও প্রযুক্তি উপদেষ্টাদের সমন্বয়ে তৈরি এই কার্ডের মাধ্যমে দেশের কয়েক কোটি কৃষকের তথ্য একটি কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডারে (ডেটাবেজ) সংরক্ষিত থাকবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক অভাবনীয় গতিশীলতা তৈরি হবে এবং বৈশ্বিক খাদ্য সংকটের মোকাবিলায় বাংলাদেশ আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।