মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় বিরাজমান চরম অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে রাজধানী ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিপর্যয় নেমে এসেছে। সাতটি দেশ তাদের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করায় গত দুই সপ্তাহে ৪৭৫টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। মূলত ইরান, ইরাকসহ মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলো বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক এভিয়েশন সেক্টরে যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে, তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের আকাশপথেও।
বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত শাহজালাল বিমানবন্দরে ফ্লাইট বাতিলের এক নজিরবিহীন ধারা পরিলক্ষিত হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, এই ১৫ দিনে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৩০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বিপর্যয় দেখা যায় ২ মার্চ, যেদিন এক দিনেই ৪৬টি ফ্লাইটের সূচি স্থগিত করা হয়। এছাড়া ১ ও ৩ মার্চ যথাক্রমে ৪০ ও ৩৯টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। ১৪ মার্চও তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ২৪টি ফ্লাইট।
ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডানের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় বিশ্বখ্যাত এয়ারলাইন্সগুলো তাদের কার্যক্রম সীমিত করতে বাধ্য হয়েছে। বাতিল হওয়া ফ্লাইটের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে কাতার এয়ারওয়েজ, এমিরেটস, গালফ এয়ার, ফ্লাইদুবাই এবং কুয়েত এয়ারওয়েজের মতো বড় সংস্থাগুলো। আকাশপথের এই অচলাবস্থার কারণে হাজার হাজার যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন, যার বড় একটি অংশই প্রবাসী শ্রমিক।
আকাশসীমা আংশিক উন্মুক্ত থাকা দেশগুলোতে অবশ্য সীমিত পরিসরে ফ্লাইট চলাচল অব্যাহত রয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত মাসকাট, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতগামী প্রায় ৪৯১টি ফ্লাইট পরিচালিত বা পরিকল্পিত রয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরবগামী ফ্লাইটের সংখ্যা কিছুটা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে, যেখানে গত ১২ মার্চ সর্বোচ্চ ২৩টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। ৪ মার্চ থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতগামী ফ্লাইটগুলোও পুনরায় গতি ফিরে পেতে শুরু করেছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রতি মুহূর্তে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এয়ারলাইন্সগুলোও পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে তাদের পরবর্তী পরিকল্পনা সাজাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি বা যুদ্ধবিরতি না আসা পর্যন্ত আকাশপথের এই সংকটের পুরোপুরি সমাধান হওয়া কঠিন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পর্যায়ক্রমে বাতিল হওয়া ফ্লাইটের সংখ্যা কমিয়ে আনা হবে।