পরবাসে জীবিকার সন্ধানে গিয়ে প্রাণ হারানো সেই পাঁচ ভাগ্যবহত বাংলাদেশির মধ্যে দুজনের মরদেহ আগামীকাল দেশে ফিরছে। মালদ্বীপের ডিগুরাহ দ্বীপে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের সেই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহত সদর আলী ও সফিকুল ইসলামের মরদেহ রোববার (১৫ মার্চ) বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মালদ্বীপের রাজধানী মালে থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ডিগুরাহ দ্বীপের একটি গেস্ট হাউসে ভয়াবহ সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটে। সেই আগুনে দগ্ধ হয়ে প্রাণ হারান পাঁচ বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধা। নিহতরা হলেন—তাজ উদ্দিন ইসলাম, মো. সদর আলী, মো. রবিন মোল্লা, সফিকুল ইসলাম এবং মো. নূরনবী সরকার। তাঁদের মধ্যে প্রথম দফায় দুজনের মরদেহ আগামীকাল স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। বাকিদের মরদেহ দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে।
এই বিয়োগান্তক ঘটনায় দগ্ধ আরও দুই বাংলাদেশি—জামাল উদ্দিন ও সাদ্দাম হোসেন বর্তমানে রাজধানী মালের ইন্দিরা গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম হাসপাতালে তাঁদের পরিদর্শন করেছেন এবং উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছেন। দুর্ঘটনার শিকার অন্যান্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য দ্রুত বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থাও করেছে মিশন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সঙ্গে হাইকমিশন সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে। হাইকমিশনার নিজে নিহতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং তাঁদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। হাইকমিশনের কর্মকর্তারা গালুলু মর্গে গিয়ে নিহতদের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।
বিস্ফোরণের সেই ভয়াল রাত ডিগুরাহ দ্বীপের প্রবাসী পাড়ায় যে ক্ষত তৈরি করেছে, তা কাটিয়ে উঠতে নিহতদের পরিবার ও আহতদের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা এখন অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।