অমর একুশে বইমেলার শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় ব্যস্ত পাঠক ও দর্শনার্থীরা। ছবি: বাসস
বইপ্রেমীদের মাসব্যাপী প্রতীক্ষা আর শব্দের সান্নিধ্যের অবসান ঘটছে। আগামীকাল রোববার (১৫ মার্চ) সাঙ্গ হচ্ছে ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৬’। গত এক মাস ধরে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান যে প্রাণের স্পন্দনে মুখরিত ছিল, কাল রাত ৯টায় আনুষ্ঠানিকভাবে তার যবনিকা টানা হবে। সমাপনী দিনে মেলা শুরু হবে দুপুর ২টায়।
বিকেল ৩টায় মেলার মূল মঞ্চে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। অনুষ্ঠানে মেলার বিস্তারিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করবেন সদস্য সচিব ড. মো. সেলিম রেজা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক।
প্রতিবছরের মতো এবারও গুণমান ও শৈল্পিক বিচারে সেরা প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রদান করা হবে বিশেষ স্মৃতি পুরস্কার। ২০২৫ সালে প্রকাশিত বিষয় ও গুণমানসম্পন্ন সর্বাধিক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার পাচ্ছে ‘কথা প্রকাশ’।
গুনমান ও শৈল্পিক বিচারে সেরা গ্রন্থের জন্য মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার পাচ্ছে তিনটি প্রতিষ্ঠান: ঐতিহ্য (কালি-কলম আর কাগজের অড রিসার্চ: ফাউন্টেন পেন), প্রথমা প্রকাশন (শিলালিপি: বাংলার আরবি-ফারসি প্রত্নলেখমালা) এবং দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (বরিশাল এন্ড বেয়ন্ড)। সর্বাধিক শিশুতোষ গ্রন্থ প্রকাশের জন্য রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার পাচ্ছে ‘পাঞ্জেরি পাবলিকেশন্স’। এছাড়া নতুন অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সেরা হিসেবে সরদার জয়েনউদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার পাচ্ছে ‘সহজ প্রকাশ’। নান্দনিক অঙ্গসজ্জায় শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার পাচ্ছে ক্রিয়েটিভ ঢাকা পাবলিকেশন্স, মাত্রা প্রকাশ ও বেঙ্গল বুকস।
মেলার ১৭তম দিন আজ শনিবার ছিল উপচে পড়া ভিড়। সকাল ১১টা থেকেই মেলা প্রাঙ্গণ মুখরিত ছিল ‘শিশুপ্রহর’-এর কলকাকলিতে। এদিন নতুন বই এসেছে ১৫৭টি। বিকেলে মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘জন্মশতবর্ষ : মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ শীর্ষক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা।
প্রবন্ধ উপস্থাপনায় মোরশেদ শফিউল হাসান বলেন, “বাঙালি মুসলমানের বুদ্ধিবৃত্তিক মুক্তি ও মাতৃভাষা চর্চার অপরিহার্যতার প্রশ্নে ‘শিখা গোষ্ঠী’ ও ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ যে আধুনিকতার বীজ বপন করেছিল, তা আজও প্রাসঙ্গিক।” আলোচনায় অংশ নিয়ে মমতাজ জাহান বলেন, উচ্চশিক্ষিত এই গোষ্ঠীটি নারীশিক্ষা ও আধুনিক চেতনা বিকাশে বিস্ময়কর প্রভাব রেখে গেছে। সভাপতির ভাষণে অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম উল্লেখ করেন, শিখা গোষ্ঠীর রচনাগুলোকে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে পাঠ করলে তা বর্তমান প্রজন্মের জন্য আরও ফলপ্রসূ হবে।
শেষ বিকেলে ‘লেখক বলছি’ মঞ্চে পাঠকদের মুখোমুখি হন কবি জাকির আবু জাফর ও কথাসাহিত্যিক শাকির সবুরসহ অন্যান্যরা। সন্ধ্যার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান মেলার প্রান্তিক বেলাকে করে তোলে আরও মায়াবী।
বিষয় : অমর একুশে বইমেলা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
