× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য তদন্তের মুখে বাংলাদেশ: লক্ষ্য কি নতুন শুল্ক আরোপ?

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

১৫ মার্চ ২০২৬, ০০:২৪ এএম । আপডেটঃ ১৫ মার্চ ২০২৬, ০১:০৮ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বাণিজ্য তদন্ত বাংলাদেশের এই প্রধান রপ্তানি খাতের ওপর বাড়তি চাপের সৃষ্টি করতে পারে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত ‘পাল্টা শুল্ক’ নীতি বাতিল হওয়ার পর এবার ভিন্ন পথে হাঁটা শুরু করেছে ওয়াশিংটন। উৎপাদন খাতে ‘অতিরিক্ত সক্ষমতা’ (ওভারক্যাপাসিটি) এবং পণ্য উৎপাদনে ‘জোরপূর্বক শ্রম’ ব্যবহারের অভিযোগে বাংলাদেশসহ বেশ কিছু দেশের বিরুদ্ধে নতুন করে বাণিজ্য তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর (ইউএসটিআর)। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরাসরি শুল্ক আরোপে আইনি বাধা আসায় এখন তদন্তের অজুহাতে বিকল্প উপায়ে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর কর বসানোর ক্ষেত্র প্রস্তুত করছে ট্রাম্প প্রশাসন।

ইউএসটিআর গত বুধবার বাংলাদেশসহ ১৬টি দেশের উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে তদন্তের ঘোষণা দেয়। এর পরদিনই পণ্য উৎপাদনে জোরপূর্বক শ্রম প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কার্যকর ভূমিকা খতিয়ে দেখতে ৬০টি দেশের তালিকা প্রকাশ করা হয়, যেখানে বাংলাদেশের নামও রয়েছে। ইউএসটিআর-এর বাণিজ্য প্রতিনিধি জ্যামিয়েসন গ্রির জানিয়েছেন, আগামী জুলাই মাসের মধ্যে এই তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ করতে চান তারা। তদন্তে ‘অন্যায্য’ বাণিজ্যের প্রমাণ মিললে মার্কিন বাণিজ্য আইনের ‘৩০১ নম্বর ধারা’ অনুযায়ী শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের পথ প্রশস্ত হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আবুল খায়েরের মতে, যুক্তরাষ্ট্র মূলত বাজার সুরক্ষাবাদ বা ‘প্রোটেকশনিজম’ নীতি অনুসরণ করছে। তিনি বলেন, “ভর্তুকি বা সস্তা শ্রমের অপব্যবহার করে উৎপাদন খরচ কমিয়ে রাখা হচ্ছে কি না, যার ফলে মার্কিন দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে—এটাই ওয়াশিংটনের মূল নজর। বাংলাদেশ পোশাক খাতের বড় রপ্তানিকারক হওয়ায় তাদের এই কৌশলী তদন্তের আওতায় এসেছে।”

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২ এপ্রিল ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশে বাংলাদেশের ওপর ৩৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিলেন, যা আলোচনার পর ২০ শতাংশে নামানো হয়। কিন্তু সম্প্রতি মার্কিন সর্বোচ্চ আদালত এই শুল্ক নীতিকে অবৈধ ঘোষণা করায় ইউএসটিআর এখন নতুন এই তদন্তের পথে হাঁটছে।

অর্থনীতিবিদরা যুক্তরাষ্ট্রের এই তদন্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। গবেষণা সংস্থা সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “মুক্ত বাজার অর্থনীতিতে চাহিদার ভিত্তিতে সক্ষমতা বাড়ানো একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। যুক্তরাষ্ট্র কোন সংজ্ঞায় একে ‘অতিরিক্ত’ বলছে, তা অস্পষ্ট।”

অন্যদিকে, জোরপূর্বক শ্রমের তালিকায় বাংলাদেশের নাম থাকাটা বিস্ময়কর। নব্বইয়ের দশকেই বাংলাদেশ আইন করে শিশুশ্রম নিষিদ্ধ করেছে এবং পোশাক খাতে এর কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করেছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রিয়াদ ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর চাপ থেকেই বাংলাদেশকে এই তালিকায় রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, দুই দেশের প্রায় ৮০০ কোটি ডলারের বাণিজ্যে বাংলাদেশ প্রায় ৪০০ কোটি ডলারের উদ্বৃত্ত ভোগ করছে।

তদন্ত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে আগামী ১৭ মার্চের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে হবে এবং মে মাসের শুরুতে ওয়াশিংটনে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশের বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান অবশ্য এতে বড় কোনো ঝুঁকি দেখছেন না। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র তথ্য চাইলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, চীন বা ভিয়েতনামের মতো উন্নত উৎপাদন ব্যবস্থার নিরিখে যদি বাংলাদেশের ওপর মানদণ্ড চাপিয়ে দেওয়া হয়, তবে তা তৈরি পোশাক খাতের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হতে পারে।


তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.