× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

হাজারো প্রাণের রক্তঋণে এই দায়বদ্ধ সংসদ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

১৩ মার্চ ২০২৬, ০৩:৫০ এএম । আপডেটঃ ১৩ মার্চ ২০২৬, ০৩:৫১ এএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দিচ্ছেন নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ দেড় দশকের শ্বাসরুদ্ধকর দুঃশাসন ও ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটিয়ে এক নতুন রাজনৈতিক সূর্যোদয়ের সাক্ষী হলো বাংলাদেশ। জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন, এখন থেকে জাতীয় সংসদই হবে দেশের সব যুক্তি-তর্ক, নীতি-নির্ধারণ এবং জাতীয় সমস্যা সমাধানের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে দেওয়া এক আবেগঘন ও নীতিনির্ধারণী বক্তব্যে তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এর আগে, এক নজিরবিহীন সাংবিধানিক শূন্যতার মুখে কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী প্রবীণ রাজনীতিবিদ ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম সভাপতি হিসেবে প্রস্তাব করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতার শুরুতেই ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদের নির্মমতার শিকার অসংখ্য মানুষের আর্তনাদ আর হাজারো প্রাণের অকাতর আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজ আমরা এই দায়বদ্ধ সংসদ পেয়েছি। যারা গুম, খুন এবং ‘আয়নাঘর’-এর মতো মধ্যযুগীয় বর্বর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাঁদের অদম্য সাহসিকতাতেই আজ দেশে গণতন্ত্রের নিঃশ্বাস ফিরে এসেছে।”

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রদূত হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, “দেশনেত্রী খালেদা জিয়া এ দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন। কিন্তু বিগত শাসনামলে সেই পবিত্র সংসদকে প্রহসনে পরিণত করা হয়েছিল। তিনি আজীবন আপসহীন লড়াই করেছেন, কিন্তু আজকের এই শুভ মুহূর্তটি দেখার আগেই তিনি পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন। আমরা তাঁর ত্যাগকে পরম শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি।”

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, “ব্যক্তি বা দলের চেয়ে জনগণের স্বার্থই বড়—এটাই আমাদের মূল দর্শন। আমি দলীয় প্রতীকে নির্বাচিত হলেও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এই সংসদে সমগ্র দেশের ১৬ কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছি।”

দেশের সার্বভৌমত্ব ও উন্নয়নের প্রশ্নে বিভেদ ভুলে ঐক্যের ডাক দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু একটি নিরাপদ, স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রশ্নে আমাদের মধ্যে কোনো বিরোধ থাকতে পারে না।” তিনি প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করার মাধ্যমে একটি আধুনিক রাষ্ট্র বিনির্মাণে সরকারি ও বিরোধী উভয় পক্ষের সংসদ সদস্যদের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের জনবিরোধী কর্মকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট জনরোষে সাবেক স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারদের কাউকেও আজ পাওয়া যায়নি, তাঁরা হয় কারাগারে, না হয় পলাতক। এই সাংবিধানিক সংকট উত্তরণে তিনি ১৯৭৩ সালের উদাহরণ টেনে বলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানও প্রবীণ নেতা মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশের নাম প্রস্তাব করেছিলেন। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় এবং বর্তমান বাস্তবতায় ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে সংসদের কার্যক্রম শুরু হয়।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.