বৈশ্বিক অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট জাতীয় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের পর এবার দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তের ফলে আগামীকাল মঙ্গলবার (১০ মার্চ) থেকে দেশের সকল মেডিকেল কলেজে ক্লাস ও পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত থাকবে।
সোমবার (৯ মার্চ) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় এই কৃচ্ছ্রসাধন নীতি গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, বর্তমান প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সাশ্রয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। আগামীকাল থেকে দেশের সকল মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিত থাকবে, যা আসন্ন ঈদুল ফিতরের ছুটির পর পুনরায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনায় জাতীয় স্বার্থে বিদ্যুৎ সাশ্রয় নিশ্চিত করতেই এই জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগে গত রোববার (৮ মার্চ) একই কারণে দেশের সকল পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ ও মূল্য নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তার ঢেউ লেগেছে দেশের অভ্যন্তরেও। এরই ধারাবাহিকতায় সরকার বড় প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিদ্যুৎ ব্যবহার সীমিত করার মাধ্যমে সম্ভাব্য বড় সংকট এড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে এই ছুটি চিকিৎসা শিক্ষার সেশনজটকে উসকে দেবে কি না, তা নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
সংবাদের মূল আকর্ষণ:
- কার্যকর: ১০ মার্চ, মঙ্গলবার থেকে।
- পরিধি: দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজ।
- কারণ: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে জাতীয় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়।
- পুনরাবৃত্তি: শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটির পর।