সোশ্যাল মিডিয়ায় ফটোকার্ড ও ভিডিও বিকৃতির মাধ্যমে প্রতিনিয়ত অপপ্রচারের শিকার হচ্ছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় নারী ব্যক্তিত্বরা। ছবি: সংগৃহীত
আগামীকাল ৮ মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবস। যখন বিশ্বজুড়ে নারীর অধিকার ও সমমর্যাদার জয়গান গাওয়ার প্রস্তুতি চলছে, তখন বাংলাদেশের ডিজিটাল পরিসরে ফুটে উঠেছে এক অন্ধকার চিত্র। তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ‘রিউমর স্ক্যানার’-এর সাম্প্রতিক এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত তিন মাসে (ডিসেম্বর ’২৫ থেকে ফেব্রুয়ারি ’২৬) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের প্রধান লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছেন নারীরা। মোট শনাক্ত হওয়া ২ হাজার ২৩টি ভুল তথ্যের মধ্যে ৪৭২টিই ছিল নারীদের কেন্দ্র করে, যা মোট অপতথ্যের প্রায় ২৩ শতাংশ।
প্রতিবেদনের তথ্যমতে, রাজনীতিতে সক্রিয় বা আলোচনায় থাকা নারীরাই সবচেয়ে বেশি এই সাইবার সহিংসতার শিকার। বিশেষ করে বিএনপি চেয়ারপারসন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমানকে ঘিরে অপপ্রচারের মাত্রা বেড়েছে জ্যামিতিক হারে। গত ডিসেম্বরে বাবার সঙ্গে দেশে ফেরার পর থেকে মাত্র তিন মাসে তাঁকে নিয়ে ৪১টি অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে, যার অর্ধেকের বেশিই ছিল চরম নেতিবাচক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
অন্যদিকে, সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানকেও রেহাই দেয়নি এই চক্র। তাঁর কর্মক্ষেত্রের বাইরেও অবান্তর ও বিভ্রান্তিকর সব দাবি জুড়ে দিয়ে অন্তত ১১টি অপতথ্য প্রচার করা হয়েছে। এমনকি ডাকসু সদস্য ফাতিমা তাসনিম জুমাকেও ২৬ বার অপতথ্যের শিকার হতে হয়েছে, যার বড় অংশই ছিল গণমাধ্যমের লোগো ব্যবহার করে তৈরি করা ‘ভুয়া ফটোকার্ড’।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারী প্রার্থীদের ব্যক্তিগত জীবন ও যোগ্যতা নিয়ে চলেছে কুরুচিপূর্ণ গুজব। ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারাকে নিয়ে ১৩টি এবং সাবেক সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানাকে নিয়ে ৮টি অপতথ্য শনাক্ত করেছে রিউমর স্ক্যানার। এই অপপ্রচারগুলো মূলত নারী প্রার্থীদের সামাজিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার একটি সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টারই অংশ।
শুধু রাজনীতি নয়, পর্দার অন্তরালেও বিষ ছড়াচ্ছে এই সিন্ডিকেট। অভিনেত্রী পরীমনিসহ অন্তত ১৫ জন নারী তারকাকে নিয়ে ১৮টি ভিন্ন ভিন্ন গুজব ছড়ানো হয়েছে। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, সাম্প্রদায়িক অপপ্রচারের ক্ষেত্রেও ৩৬ শতাংশ লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে নারীদের। রিউমর স্ক্যানারের দাবি, এসব সাম্প্রদায়িক অপতথ্যের প্রায় ৮২ শতাংশই ছড়ানো হয়েছে ভারতীয় পরিচয়ধারী বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে।
প্রতিবেদনে সবচেয়ে আশঙ্কাজনক দিক হিসেবে উঠে এসেছে নারীদের ছবি ও ভিডিও বিকৃত (ডিপফেক বা এডিটেড) করে অশ্লীল কনটেন্ট হিসেবে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা। জাইমা রহমান, মাহমুদা মিতু ও তাসনিম জারার মতো ব্যক্তিত্বরা এই ডিজিটাল লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন। রিউমর স্ক্যানারের মতে, এটি কেবল ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুণ্ন করছে না, বরং জনপরিসরে নারীদের অংশগ্রহণকে নিরুৎসাহিত করার একটি সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র।
আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রাক্কালে এই প্রতিবেদনটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে নারীর ক্ষমতায়নের পথটি ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়বে।
বিষয় : ফেসবুক নারী নারী দিবস ফ্যাক্ট চেক
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
