সদ্য সমাপ্ত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ (ভিআইপি) হিসেবে এক বছরের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর (এসএসএফ) সুরক্ষার অধীনে আনা হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে গত ১০ ফেব্রুয়ারি এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সরকারের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। দায়িত্ব হস্তান্তরের পরবর্তী এক বছর তিনি এই বিশেষ নিরাপত্তা সুবিধা ভোগ করবেন।
তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লা পান্নার সই করা ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইনের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে দায়িত্ব ছাড়ার পরবর্তী ৩৬৫ দিনের জন্য ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত মো. সাইফুল্লা পান্না প্রজ্ঞাপন জারির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মূলত রাষ্ট্রীয় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় এই মর্যাদা প্রদান করা হয়েছে।
গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার এক অভূতপূর্ব অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। দীর্ঘ ১৮ মাসের চড়াই-উতরাই পেরিয়ে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করলে অবসান ঘটে অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের। প্রথা অনুযায়ী নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের সাথে সাথেই বিলুপ্ত হয় বিদায়ী উপদেষ্টা পরিষদ।
বাংলাদেশে সাধারণত সাংবিধানিক পদধারী ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা এসএসএফের নিরাপত্তা পেয়ে থাকেন। তবে অধ্যাপক ইউনূসের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা এক বছর নির্ধারিত করায় তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদার বিষয়টি নতুন গুরুত্ব পেয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের উত্তাল সময়ে রাষ্ট্রের হাল ধরা এই ব্যক্তিত্বের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে নতুন সরকারও অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।