মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত একটি স্বচ্ছ ও নির্ভুল মুক্তিযোদ্ধা তালিকা প্রণয়নের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) সদস্যবৃন্দের সঙ্গে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত বির্তক দূর করতে এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযোগ্য মর্যাদা নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে নতুন করে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শুরু হবে। সভায় মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “মহান মুক্তিযুদ্ধই বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূল ভিত্তি। রাজনৈতিক সংকীর্ণতায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনার যে অপব্যবহার হয়েছে, তার ফলে তরুণ প্রজন্ম দীর্ঘদিন সঠিক ইতিহাস থেকে বঞ্চিত ছিল। এখন সময় এসেছে প্রকৃত ইতিহাসকে জনসমক্ষে নিয়ে আসার।”
মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে অন্যান্য আন্দোলন-সংগ্রামের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা সমীচীন হবে না। তিনি বলেন, “মুক্তিযোদ্ধারা যে অসীম ত্যাগ ও তিতিক্ষার বিনিময়ে এই ভূখণ্ডকে স্বাধীন করেছেন, তা আজকের প্রজন্মের অনেকেরই অজানা। রাষ্ট্র সৃষ্টির এই মূল ভিত্তিকে যথাযথ সম্মানে প্রতিষ্ঠিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
মতবিনিময় সভায় মন্ত্রণালয়ের সচিব ইসরাত চৌধুরীসহ জামুকার সদস্যবৃন্দ এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, শুধু তালিকা প্রণয়ন নয়, বরং মুক্তিযুদ্ধের প্রতিটি অধ্যায়কে বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের ভিত্তিতে নথিবদ্ধ করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে ইতিহাসের কোনো বিকৃতি না ঘটে।