× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

দিল্লিতে ঠিক কী ঘটেছিল মাহদী হাসানের সাথে? বেরিয়ে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:৫৭ এএম । আপডেটঃ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:৫৭ এএম

দিল্লি বিমানবন্দরে তল্লাশির মুখে মাহদী হাসান এবং পরবর্তী ঘটনাক্রম নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র কৌতূহল। —ছবি: সংগৃহীত

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসানকে ঘিরে গত কয়েক দিন ধরে সরগরম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অবস্থানকালে তার সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে রহস্যের ধোঁয়াশা তৈরি হলেও অবশেষে বেরিয়ে আসছে নেপথ্যের চাঞ্চল্যকর তথ্য। বুধবার বিকেলে ইন্ডিগোর একটি বিমানে বাংলাদেশে ফেরার পর এই তরুণ নেতার দাবি এবং দিল্লির নিরাপত্তা সূত্রগুলোর দেওয়া ভাষ্যে উঠে এসেছে এক বৈচিত্র্যময় ও স্নায়ুচাপের উপাখ্যান।

মাসখানেক আগে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় দায়িত্বরত এক পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রকাশ্য হুমকির একটি ভিডিও মাহদী হাসানকে বিতর্কের কেন্দ্রে ঠেলে দেয়। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই সম্প্রতি পর্তুগালের ভিসার সন্ধানে দিল্লিতে পা রাখেন তিনি। দিল্লির প্রাণকেন্দ্র কনট প্লেসে একটি ভিসা প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রে অবস্থানকালে মাহদীকে চিনে ফেলেন এক ব্যক্তি এবং গোপনে তার গতিবিধির ভিডিও ধারণ করেন। এই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নড়েচড়ে বসে ভারতের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল থেকেই মাহদীর ওপর কঠোর নজরদারি শুরু হয়। অচেনা নম্বর থেকে ঘনঘন ফোন আসা এবং গোয়েন্দা ছায়ার উপস্থিতি মাহদীকে শঙ্কিত করে তোলে। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে তিনি দিল্লির জামা মসজিদ এলাকা থেকে শুরু করে পাহাড়গঞ্জের হোটেলগুলোতে দৌড়ঝাঁপ করলেও শেষ পর্যন্ত তার অবস্থান সংকীর্ণ হয়ে আসে।

দিল্লির একটি সূত্র দাবি করেছে, মাহদী হাসান পর্তুগালের লিসবনে পাড়ি দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ভারতে এসেছিলেন এবং তার কাছে প্রায় ৪০ লাখ টাকার সমপরিমাণ ক্রিপ্টো-কারেন্সি ছিল। যদিও বাংলাদেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টিকে ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।

তবে ভারতের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের কঠোর অবস্থান ছিল ভিন্ন। তাদের মতে, কোনো ব্যক্তি ভারতের প্রতিবেশী দেশের সার্বভৌমত্ব কিংবা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ক্ষুণ্ণ করার মতো প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়ে ভারতের ভূমি ব্যবহার করে অন্য দেশে চলে যাবে, তা তারা হতে দিতে পারেন না। ফলে মঙ্গলবার রাতেই তার ভারতীয় ভিসা বাতিল করা হয় এবং বিষয়টি তাকে পরোক্ষভাবে জানিয়ে দেওয়া হয় যে—ভারতে তার অবস্থানের সময় ফুরিয়ে এসেছে।

বুধবার সকালে দিল্লি বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বেষ্টনীতে পৌঁছানোর পর শুরু হয় চূড়ান্ত নাটকীয়তা। ইন্ডিগোর বিমানে ওঠার ঠিক আগমুহূর্তে নিরাপত্তা তল্লাশিতে তাকে থামিয়ে দেয় গোয়েন্দারা। প্রায় আধঘণ্টার এক রুদ্ধদ্বার জিজ্ঞাসাবাদে তাকে স্পষ্ট বুঝিয়ে দেওয়া হয় যে, ভারত-বিরোধী বক্তব্য এবং জাতিগত বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে তাকে সেখানে স্বাগত জানানো সম্ভব নয়।

যদিও মাহদী হাসান অভিযোগ করেছেন তিনি ‘চরম হয়রানি’ এবং ‘প্রাণের ঝুঁকিতে’ ছিলেন, তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে, তাকে কোনো শারীরিক নিগ্রহ করা হয়নি। মূলত কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপের মাধ্যমেই তাকে দ্রুত নিজ দেশে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়।

বুধবার বিকেলে ঢাকা পৌঁছানোর পর মাহদী হাসান গণমাধ্যমকে জানান, তাকে ‘বৈষম্যবিরোধী নেতা’ পরিচয়ে আটকে রাখা হয়েছিল এবং একজন নাগরিক হিসেবে তিনি প্রাপ্য নিরাপত্তা পাননি। বাংলাদেশে পৌঁছানোর পরও বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বাহিনীর জেরার মুখে পড়তে হয় তাকে।

বাংলাদেশের একটি জেলা পর্যায়ের আন্দোলনকারী নেতার দিল্লির এই সফর কেন এত নাটকীয় হয়ে উঠল এবং এর নেপথ্যে কোনো গভীর রাজনৈতিক বা আর্থিক সমীকরণ ছিল কি না, সেই প্রশ্নগুলো এখনো ঢাকার বাতাসে ভাসছে।


সূত্র: বিবিসি 

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.