গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণ ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দ্রুততার সঙ্গে পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে নতুন সরকার। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তৃতীয় কর্মদিবসে আজ শনিবার প্রথমবারের মতো তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে অফিস করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় দেশের আলেম-ওলামা ও ধর্মগুরুদের দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নের পথে একধাপ এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী, আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই দেশের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব এবং বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের বিশেষ সম্মানী ও উৎসব ভাতা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
সচিবালয়ে টানা দুই দিন দাপ্তরিক কাজ শেষে আজ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ব্যস্ত সময় পার করেন সরকারপ্রধান। বৈঠক শেষে কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন সভার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, নির্বাচনের আগে দেওয়া অঙ্গীকার অনুযায়ী ধর্মীয় সেবকদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের কিছু স্থানে এই সম্মানী প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে, যা পর্যায়ক্রমে সারা দেশে বিস্তৃত হবে।
বৈঠকে কেবল ধর্মীয় খাতের উন্নয়নই নয়, বরং একটি বৈষম্যমুক্ত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার রূপরেখা নিয়েও বিশদ আলোচনা হয়। উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন আরও জানান, বেকারত্ব দূরীকরণ ও দক্ষ জনশক্তি গড়ার লক্ষ্যে দেশের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে সরকার। বাজারমুখী ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু থেকে প্রধানমন্ত্রীর এই তড়িৎ সিদ্ধান্তগুলো জনমনে নতুন আশার সঞ্চার করবে।