সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ডামাডোলে স্থগিত থাকা জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংক্রান্ত সংশোধন ও নতুন আবেদনগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে নাগরিকদের ভোগান্তি লাঘবে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জরুরি ভিত্তিতে কার্যক্রম শুরুর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের (এনআইডি) সহকারী পরিচালক মুহা. সরওয়ার হোসেনের সই করা এক অফিস আদেশে এই নির্দেশনা জারি করা হয়।
নির্বাচন কমিশনের আদেশে মাঠ কর্মকর্তাদের জন্য সুনির্দিষ্ট তিন দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে:
তালিকা প্রণয়ন
জন্ম তারিখ সংক্রান্ত যে আবেদনগুলো বর্তমানে ‘ক-১’ থেকে ‘গ’ ক্যাটাগরিতে অনিষ্পন্ন অবস্থায় রয়েছে, সেগুলোর একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ তালিকা তৈরি করতে হবে। এই তালিকা আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ক্যাটাগরি পরিবর্তন
অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা প্রাপ্ত তালিকাগুলো যাচাই-বাছাই করে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সেগুলোকে ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করবেন।
দ্রুত নিষ্পত্তি
২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতির কারণে এনআইডি সংশোধন কার্যক্রম সীমিত ছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় জমে থাকা আবেদনগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আবেদনগুলো ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত হওয়ার ফলে এগুলোর চূড়ান্ত অনুমোদনের এখতিয়ার সরাসরি এনআইডি মহাপরিচালকের অধীনে চলে আসবে। এর ফলে মাঠ পর্যায়ে ঝুলে থাকা জটিল আবেদনগুলো কেন্দ্রীয়ভাবে দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে কমিশন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ইসির এই উদ্যোগের ফলে গত কয়েক মাসে ঝুলে থাকা কয়েক লাখ আবেদনকারীর দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটবে। বিশেষ করে বিদেশ গমন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি বা ব্যাংকিং সেবার জন্য যাদের এনআইডি সংশোধন জরুরি ছিল, তারা এই সিদ্ধান্তে স্বস্তি পাবেন।