৪০ বছর আগে দালালের খপ্পরে পড়ে দেশ থেকে পাকিস্তানে পাচার হয়েছিলেন ১৮ বছরের তরুণী রাজিয়া বিবি। জীবনের দীর্ঘ সময় প্রবাসে যন্ত্রণার সঙ্গে লড়াই করা এই বাংলাদেশি নারী এখন জীবনের শেষবেলায় জন্মভূমিতে ফেরার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেছেন। অসুস্থ বৃদ্ধা মাকে একবার দেখার শেষ ইচ্ছা পূরণে তিনি পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজের বিশেষ হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। আজ মঙ্গলবার পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে এই হৃদয়স্পর্শী খবরটি উঠে এসেছে।
রাজিয়া জানান, চার দশক আগে বাংলাদেশে একটি কারখানায় কাজ করার সময় এক সহকর্মী তাঁকে সোনা কেনাবেচার লোভ দেখিয়ে ভারতে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাঁকে সরাসরি করাচিতে পাচার করা হয়। পরে পাঞ্জাব প্রদেশের কাসুর জেলার পাতকি শহরের এক ব্যক্তি মাত্র পাঁচ হাজার রুপিতে রাজিয়াকে কিনে নেন তাঁর প্রতিবন্ধী ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার জন্য। সেই থেকে শুরু হওয়া প্রবাস জীবনের প্রতিটি দিনই কেটেছে মা-বাবা ও ভাই-বোনদের সঙ্গে দেখা করার তীব্র আকুতি নিয়ে।
রাজিয়া বর্তমানে পাতকি শহরের একটি গ্রামে একাকী জীবন যাপন করছেন। স্বামী মারা গেছেন এবং একমাত্র মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় তিনি এখন নিঃসঙ্গ। গত ৪০ বছর ধরে ছাগল ও মুরগি পালন করে তিল তিল করে টাকা জমিয়েছেন রাজিয়া, যেন নিজের খরচে দেশে ফিরতে পারেন। এর আগে একবার পাসপোর্ট, ভিসা ও বিমানের টিকিট সংগ্রহ করলেও ইমিগ্রেশন বিভাগ তাকে বিমানবন্দর থেকে ফিরিয়ে দেয়। রাজিয়ার দাবি, তাঁর সব নথিপত্র বৈধ থাকা সত্ত্বেও তাঁকে বাংলাদেশে যেতে দেওয়া হয়নি।
বছর দুয়েক আগে স্থানীয় এক ফার্মাসিস্টের সহায়তায় ভিডিও কলের মাধ্যমে বাংলাদেশে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে রাজিয়ার যোগাযোগ স্থাপিত হয়। জানতে পারেন তাঁর মা এখনো জীবিত, তবে অত্যন্ত অসুস্থ। রাজিয়া বলেন, “মা-বোনের বিকল্প কেউ হতে পারে না। মা বেঁচে থাকতেই আমি তাঁর মুখটা একবার দেখতে চাই। মরিয়ম নওয়াজও একজন মা, তিনি নিশ্চয়ই আমার কষ্ট বুঝবেন।”
বর্তমানে রাজিয়া আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর ভয়, যদি পাকিস্তান সরকার দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তবে মায়ের সঙ্গে দেখা করার আজন্ম লালিত স্বপ্নটি অপূর্ণই থেকে যাবে।