× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

কোথায় সফল কোথায় ব্যর্থ, বিচারের ভার আপনাদের ওপর: ড. ইউনূস

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২:৫১ পিএম । আপডেটঃ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:৩৪ এএম

জাতির উদ্দেশে বিদায়ী ভাষণ দিচ্ছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ১৮ মাসের দায়িত্ব পালন শেষে তিনি আগামীকাল নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন। ছবি: সংগৃহীত/পিআইডি

সাড়ে ১৫ বছরের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটিয়ে ছাত্র-জনতার বিপ্লবোত্তর বাংলাদেশের হাল ধরা অন্তর্বর্তী সরকারের যাত্রা শেষ হচ্ছে। সোমবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া বিদায়ী ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, “একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার সংগ্রাম অব্যাহত রাখুন।” নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রাক্কালে তিনি তাঁর ১৮ মাসের কর্মযজ্ঞের খতিয়ান তুলে ধরেন এবং এর মূল্যায়নের ভার অর্পণ করেন জনগণের ওপর।

২০২৪ সালের ৮ আগস্ট এক গভীর সংকটের মধ্যে দায়িত্ব নিয়েছিল ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার। বিদায়লগ্নে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমরা মাইনাস থেকে শুরু করেছিলাম। তলাবিহীন অর্থনীতি আর ঋণের বোঝা ছিল আগের সরকারের রেখে যাওয়া বিষফল। আজ আমরা একটি স্থিতিশীল অর্থনৈতিক ভিত্তি এবং ৩৪ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ রেখে যাচ্ছি।”

তিনি জানান, গত ১৮ মাসে অন্তত ১৩০টি নতুন আইন ও সংশোধনী প্রণয়ন করা হয়েছে। বিশেষ করে বিচার বিভাগকে স্বাধীন করতে পৃথক সচিবালয় গঠন, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার সংস্কৃতি চিরতরে বন্ধে আইনি কাঠামো তৈরি এবং মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করার বিষয়গুলোকে তিনি অন্যতম সাফল্য হিসেবে চিহ্নিত করেন।

সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ‘উৎকৃষ্ট উদাহরণ’ হিসেবে বর্ণনা করে ড. ইউনূস বলেন, “হার-জিতই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। উৎসবমুখর পরিবেশে এই নির্বাচন প্রমাণ করেছে জনগণ তাদের ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশে কীভাবে নির্বাচন হওয়া উচিত, এটি তার পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবে।” তিনি জয়ী ও বিজিত উভয় পক্ষকেই অভিনন্দন জানান।

প্রধান উপদেষ্টার মতে, তাঁর সরকারের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক অর্জন হলো ‘জুলাই সনদ’। তিনি বিশ্বাস করেন, এই সনদ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে আর কখনো ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার সুযোগ পাবে না। তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদ যেন আর মাথাচাড়া দিতে না পারে, তার জন্য কেবল রাজনৈতিক অঙ্গীকার নয়, বিচারব্যবস্থার মৌলিক সংস্কারও প্রয়োজন। আমরা সেই পথ প্রশস্ত করে রেখে যাচ্ছি।”

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘নতজানু’ নীতি ত্যাগ করে সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি করেন ড. ইউনূস। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক সুবিধা ও জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তিকে তিনি ‘ঐতিহাসিক মাইলফলক’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, বাংলাদেশ এখন কেবল সংকট উত্তরণের গল্প নয়, বরং বৈশ্বিক বাজারে এক আত্মবিশ্বাসী ও উদীয়মান অর্থনীতির নাম।

বিদায়লগ্নে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে ড. ইউনূস বলেন, “কোথায় কতটুকু সাফল্য পেয়েছি আর কোথায় ব্যর্থ হয়েছি—সে বিচারের ভার আপনাদের ওপর থাকল। আমরা সাধ্যমতো অঙ্গীকার রক্ষার চেষ্টা করেছি।”

আগামীকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নবনির্বাচিত সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বের পরিসমাপ্তি টানবেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, গণতন্ত্র ও বাক-স্বাধীনতার যে চর্চা শুরু হয়েছে, তা আগামীতে আরও সমৃদ্ধ হবে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.