নিউইয়র্কের কুইন্স কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির দপ্তর। ফাইল ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে করোনা মহামারিকালীন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বরাদ্দকৃত ত্রাণ তহবিল আত্মসাতের অভিযোগে আটজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতসহ মোট নয়জন আসামি আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন। আসামিরা জালিয়াতির মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ ফেরত দিতে সম্মত হয়েছেন। কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মেলিন্ডা ক্যাটজ এবং নিউইয়র্ক স্টেট ইন্সপেক্টর জেনারেল লুসি ল্যাং গত ১৩ ফেব্রুয়ারি এক যৌথ বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের জুন মাস থেকে আসামিরা নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ‘এম্পায়ার স্টেট ডেভেলপমেন্ট প্যান্ডেমিক স্মল বিজনেস রিকভারি গ্র্যান্ট প্রোগ্রাম’-এর আওতায় একাধিক ভুয়া ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নামে আবেদন করেন। অফিস ভাড়া, কর্মচারীদের বেতন ও সরঞ্জাম কেনার অজুহাতে সরকারি অনুদান পাওয়ার পরপরই তারা সেই অর্থ ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করেন। ট্যাক্স নথি ও ব্যাংক রেকর্ড পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, অনুদান পাওয়ার আগে ওইসব প্রতিষ্ঠানের কোনো বাস্তব অস্তিত্ব বা ব্যবসায়িক কার্যক্রম ছিল না।
কুইন্স সুপ্রিম কোর্টে দোষ স্বীকারের পর আদালত আসামিদের মোট ১০ লাখ ৯১ হাজার ৭২০ ডলার জরিমানা ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে ইতিমধ্যে ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন আসামিরা।
কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মেলিন্ডা ক্যাটজ বলেন, “মহামারির মতো সংকটে বিপর্যস্ত ব্যবসায়ীদের জন্য বরাদ্দ তহবিল চুরি করা গুরুতর অপরাধ। দোষ স্বীকারের মাধ্যমে আসামিরা এখন ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য হচ্ছেন।”
দণ্ডিত ৯ জনের মধ্যে আটজন বাংলাদেশি ও একজন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত। তারা হলেন— মাহবুব মালিক (৪১), তোফায়েল আহমেদ (৫০), ইউসুফ এমডি (৪৫), মোহাম্মদ চৌধুরী ওরফে খোকন আশরাফ (৬৮), জাকির চৌধুরী (৫৯), মোহাম্মদ খান (৪৯), তানভীর মিলন (৫৫), জুনেদ খান (৫৬) এবং নাদিম শেখ (৫৬)। ২০২৪ সালের মে মাসে তদন্ত শুরু হওয়ার পর ২০২৫ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে আসামিরা পর্যায়ক্রমে আদালতে আত্মসমর্পণ ও দোষ স্বীকার করেন।
মামলার অন্যতম আসামি জাকির চৌধুরীকে দেড় লাখ ডলার পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তিনি ইতিমধ্যে অর্ধেক টাকা জমা দিয়েছেন। জাকির চৌধুরী দাবি করেন, ব্যবসায়িক পার্টনার খোকন আশরাফের প্ররোচনায় তিনি এই পরিস্থিতিতে পড়েছেন। আইনি লড়াই দীর্ঘায়িত করে ‘বদনাম’ এড়াতেই তিনি অর্থ ফেরত দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করেছেন বলে জানান। অন্যদিকে, খোকন আশরাফ জানান, আদালতের নির্দেশের পর তিনি প্রথমেই ৭০ হাজার ডলার পরিশোধ করেছেন এবং বিষয়টি এখন আইনগতভাবে সমাধান হয়ে গেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
