× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

বিএনপির জয়ে বদলে যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার সমীকরণ: আল-জাজিরার বিশ্লেষণ

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:১৬ এএম । আপডেটঃ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:১৬ এএম

তারেক রহমান |

প্রায় ১৭ বছর পর একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে বিএনপি। এই ভূমিধস বিজয় কেবল বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে পরিবর্তন আনেনি, বরং দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণেও বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বিএনপির এই ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন ভারত, পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের গতিশীলতাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে পারে।

নির্বাচনে জয়ের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। ফোনে কথা বলার সময় মোদি একটি ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রগতিশীল’ বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অথচ ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছিল।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মোদি সরকার এখন নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে ভারতের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে হাসিনাকে প্রত্যর্পণ ইস্যু, তিস্তার পানিবণ্টন বিরোধ এবং সীমান্তে হত্যা বন্ধের মতো বিষয়গুলো। জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক আসিফ বিন আলী মনে করেন, বিএনপি ভারতের সঙ্গে ‘কার্যকর সম্পর্কের’ দিকে ফিরতে চাইলেও সেটি হবে পারস্পরিক সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ না করার ভিত্তিতে।

ভারত যখন অনিশ্চয়তার মুখে, পাকিস্তান তখন বাংলাদেশে বড় সুযোগ দেখছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই সরাসরি বিমান চলাচল এবং ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পাকিস্তানের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব সালমান বশিরের মতে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঢাকা-ইসলামাবাদ সম্পর্ক আরও স্বাধীন ও কৌশলগত উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে। এমনকি জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান বিক্রির মাধ্যমে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

বাংলাদেশের জন্য সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্কটি হতে যাচ্ছে বেইজিংয়ের সঙ্গে। শেখ হাসিনার পতনের পরও চীন কৌশলগতভাবে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ২.১ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ও ঋণ চুক্তি নিশ্চিত করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন মনে করেন, বিএনপি সরকার সম্ভবত চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করবে। তবে এক্ষেত্রে বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে ওয়াশিংটনের যে অস্বস্তি রয়েছে, তা সামাল দেওয়া হবে ঢাকার জন্য একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্যমূলক চ্যালেঞ্জ।

বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এর অর্থ হলো—জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে সব দেশের সঙ্গে বাস্তবসম্মত সম্পর্ক গড়ে তোলা। দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের সরকারকে ভারত ও চীনের মধ্যকার আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এড়িয়ে নিজস্ব কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখতে হবে।

বাংলাদেশের এই নতুন রাজনৈতিক অভিযাত্রা দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের ভূ-নীতিকে পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ করে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, নতুন প্রশাসন ‘বড় কথার’ পরিবর্তে ‘বাস্তববাদের’ ওপর ভিত্তি করে কতটা দক্ষ কূটনীতি পরিচালনা করতে পারে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.