বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দিচ্ছেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। আজ রবিবার বিকেলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় এই শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উপস্থিত থাকবেন কি না, তা নিয়ে দুই দেশেই ব্যাপক কৌতূহল ছিল। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার মুম্বইয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত বৈঠক থাকায় মোদী ঢাকা সফরে আসতে পারছেন না। এই পরিস্থিতিতে লোকসভার স্পিকারকে পাঠানোর সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ভারতের ঘরোয়া রাজনীতিতে ওম বিড়লার বিরুদ্ধে বিরোধী শিবিরের অনাস্থা প্রস্তাব থাকলেও, প্রতিবেশী দেশের নতুন সরকারের অভিষেকে তাঁকে পাঠানোর মাধ্যমে নয়াদিল্লি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও দ্বিপাক্ষিক বন্ধুত্বের প্রতি শক্তিশালী বার্তা দিতে চেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সদস্যরা শপথ নেবেন। বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন করা হবে। এরপর বিকেল ৪টায় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেবেন। রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন নতুন মন্ত্রিসভাকে শপথবাক্য পাঠ করাতে পারেন বলে জানা গেছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী এবং দুই দেশের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতসহ ১৩টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও, ওম বিড়লার এই সফরকে বিএনপি ও নয়ািল্লির মধ্যে সম্পর্কের নতুন রসায়ন তৈরির প্রাথমিক ধাপ হিসেবে দেখছেন কূটনীতিকরা।