× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ডিজিটাল সংস্কার না হলে বিশ্বাসযোগ্যতার ঝুঁকিতে পড়বে নির্বাচন: টেকগ্লোবাল

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০:১০ পিএম । আপডেটঃ ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:২০ এএম

ভবিষ্যৎ নির্বাচনে ডিজিটাল কারচুপি রোধে এনআইডি ও অ্যাপ ভিত্তিক ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের দাবি জানিয়েছে টেকগ্লোবাল ইনস্টিটিউট।

দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থায় কারচুপির ধরন বদলেছে। আগেকার ব্যালট বাক্স ছিনতাই বা কেন্দ্র দখলের সনাতনী পদ্ধতির বদলে এখন অ্যাপ, ড্যাশবোর্ড এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্যভাণ্ডার ব্যবহার করে সূক্ষ্ম ও ডেটানির্ভর জালিয়াতির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিদ্যমান ডিজিটাল কাঠামোর এই দুর্বলতাগুলো দ্রুত সংস্কার করা না হলে ভবিষ্যৎ নির্বাচনও গুরুতর বিশ্বাসযোগ্যতার সংকটে পড়তে পারে।

তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান টেকগ্লোবাল ইনস্টিটিউট-এর ‘হাইজ্যাকিং দ্য ভোট: ইনসাইড বাংলাদেশ’স ডেটা-ড্রাইভেন ইলেকশন ম্যানিপুলেশন’ শীর্ষক নীতি প্রতিবেদনে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সংস্থাটি তাদের ওয়েবসাইটে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে।


এনআইডি ডেটাবেজ ও জাল ভোটের শঙ্কা

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংক ও মোবাইল অপারেটরসহ দেশের প্রায় ১৮০টি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বর্তমানে এনআইডি ডেটাবেজ ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে। গবেষকদের আশঙ্কা, কোনো রাজনৈতিক পক্ষ যদি এই সুযোগে প্রবাসী বা মৃত ভোটারদের তালিকা সংগ্রহ করতে পারে, তবে প্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের নামে জাল ভোট দেওয়া সহজ হয়ে পড়বে। যথাযথ তথ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে না পারলে এই বিশাল তথ্যভাণ্ডার নির্বাচনের স্বচ্ছতার জন্য বুমেরাং হতে পারে।


প্রশ্নবিদ্ধ প্রবাসী ভোট ও ফলাফল ব্যবস্থাপনা

গত ১৮ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া প্রবাসী ভোটারদের পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে টেকগ্লোবাল। সংস্থাটি মনে করে, ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ কোনো স্বতন্ত্র ব্যবস্থা নয়, বরং এটি বিদ্যমান দুর্বল ডিজিটাল কাঠামোরই অংশ। ফলে কাঠামোগত ত্রুটি দূর না করে এই ব্যবস্থা আস্থার সংকটকে আরও ঘনীভূত করবে।

একইভাবে নির্বাচন কমিশনের ‘স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি’ অ্যাপের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রতিবেদনে সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে। অ্যাপে তথ্য প্রদান বা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কোনো আইনগত ব্যাখ্যা বা দৃশ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় সংবেদনশীল আসনগুলোর ফলাফল ম্যানিপুলেশনের সুযোগ থেকে যেতে পারে।


নজরদারি না কি গোপনীয়তা লঙ্ঘন?

আসন্ন নির্বাচনে ৪২ হাজার কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর সরকারি পরিকল্পনাকে স্বাগত জানালেও এর আইনগত অস্পষ্টতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্যামেরা কোথায় বসবে বা ফুটেজ কারা দেখবে—তার সুস্পষ্ট নীতিমালা না থাকলে ভোটাররা নিজেদের ‘নজরদারির আওতায়’ মনে করে চাপ অনুভব করতে পারেন। এটি ভোটাধিকারের গোপনীয়তা রক্ষার পথে অন্তরায় হতে পারে।


বিগত নির্বাচনের তিন রহস্যময় ‘প্যাটার্ন’

গবেষণাটি ২০২৪ সালের ১৫০টি আসনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে তিনটি সন্দেহজনক প্যাটার্ন খুঁজে পেয়েছে: ১. ভোটার উপস্থিতি কম থাকলেও অস্বাভাবিক হারে বাতিল ভোট এবং বৈধ ভোটের ৯৯ শতাংশই এক প্রার্থীর পাওয়া। ২. শতভাগ ভোটার উপস্থিতি এবং সব ভোটই নির্দিষ্ট এক প্রার্থীর পক্ষে যাওয়া। ৩. সারা দেশের সহস্রাধিক কেন্দ্রে একটি ভোটও বাতিল না হওয়া—যা গাণিতিকভাবে সম্ভব হলেও পরিসংখ্যানগতভাবে চরম অসংগতিপূর্ণ।

নির্বাচন কমিশনকে ডিজিটাল ঝুঁকি সামলাতে ১০টি সুনির্দিষ্ট সুপারিশ দিয়েছে টেকগ্লোবাল। এর মধ্যে অন্যতম হলো—

  • এনআইডি ডেটাবেজের প্রবেশাধিকার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা।
  • ডিজিটাল ফলাফল রিপোর্টিংয়ে ‘পাবলিক অডিট ট্রেল’ বাধ্যতামূলক করা, যাতে সিস্টেমের ডেটা পরিবর্তনের প্রতিটি রেকর্ড সাধারণ মানুষ দেখতে পারে।
  • সিসিটিভি ফুটেজ ব্যবহারের ক্ষেত্রে শক্তিশালী আইনি সুরক্ষা কাঠামো তৈরি করা।

টেকগ্লোবাল ইনস্টিটিউটের বাংলাদেশ প্রধান ফৌজিয়া আফরোজ জানান, নাগরিকদের তথ্যের নিরাপত্তা ও সিস্টেম নিয়ে স্বচ্ছতা তৈরি না করলে আগামী নির্বাচনও কারচুপির ডিজিটাল ঝুঁকির বাইরে থাকবে না।

বিষয় : নির্বাচন

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.