ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরাকান আর্মির হাতে আটক সন্তানদের ফিরে পেতে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা মদিনা বেগম। পাশে আহাজারি করছেন নিখোঁজ জেলেদের অন্য স্বজনরা।
মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির হাতে আটক চার শতাধিক বাংলাদেশি জেলের সন্ধান ও তাঁদের দ্রুত উদ্ধারে সরকারের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন স্বজনরা। তাঁরা অভিযোগ করেছেন, গত পাঁচ মাসে টেকনাফ ও সেন্ট মার্টিনের অন্তত ৪২০ জন জেলেকে বাংলাদেশের জলসীমা থেকে অপহরণ করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও অপহৃতদের উদ্ধারে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো তৎপরতা না থাকায় চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন কয়েকশ পরিবার।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে ‘দ্বীপের নারীরা: সেন্ট মার্টিন দ্বীপের জন্য একটি পরিবেশগত নারীবাদের দৃষ্টিভঙ্গি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে নিখোঁজ জেলেদের পরিবারের সদস্যরা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ‘সেন্টার ফর ক্রিটিক্যাল ডিসকোর্স’।
অনুষ্ঠানে সেন্ট মার্টিন থেকে ঢাকায় এসে সরাসরি নিজেদের কষ্টের কথা তুলে ধরেন অপহৃত জেলেদের স্বজনরা। গত সেপ্টেম্বরে মাছ ধরার সময় অপহৃত হওয়া এক জেলের স্ত্রী হুমায়রা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “স্বামী বেঁচে আছেন কি না জানি না। দুই সন্তান নিয়ে আধপেটা খেয়ে দিন কাটছে। একদিকে অভাব, অন্যদিকে দাদনের ঋণের চাপ। আমার স্বামীকে ফিরিয়ে দিন।”
নিখোঁজ দুই জেলের মা মদিনা বেগম বলেন, “কৈশোরে স্বামীকে হারিয়ে অনেক কষ্টে সন্তানদের বড় করেছি। এখন তারা আরাকান আর্মির হাতে বন্দী। মরার আগে যেন সন্তানদের চেহারাটা দেখে যেতে পারি, সরকারের কাছে এটাই আমার শেষ আকুতি।”
সেন্ট মার্টিনের বাসিন্দা মো. যোবায়ের বলেন, পর্যটন সীমিত হওয়ায় জেলেরা মূলত মৎস্য শিকারের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এখন বাংলাদেশের জলসীমাতেও জেলেরা নিরাপদ নন।
অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ছাত্র ইউনিয়নের (একাংশ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মেঘমল্লার বসু সরকারের নীরবতার কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “যদি বিএসএফ সাড়ে চারশ জেলেকে ধরে নিয়ে যেত, তবে সারা দেশে প্রতিবাদের ঝড় উঠত। অথচ আরাকান আর্মি যখন আমাদের মানুষকে জিম্মি করে রাখে, তখন সরকার নিশ্চুপ। এটি একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য চরম অবমাননাকর।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক সাজ্জাদ সিদ্দিকী বলেন, “সমুদ্র জয় হলেও আমাদের জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি। যুদ্ধের অনুপস্থিতিই শান্তি নয়, নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে না পারা রাষ্ট্রের কাঠামোগত ব্যর্থতা।”
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, নিখোঁজদের পরিবার শুধু জানতে চায় তাদের স্বজনরা বেঁচে আছে কি না। রাষ্ট্র সেই ন্যূনতম তথ্যটুকুও দিতে পারছে না—যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
গবেষক সামিরা আহমেদ মনে করেন, সেন্ট মার্টিনকে কেবল পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে না দেখে এর ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব ও স্থানীয় মানুষের সংকটের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিচার করা প্রয়োজন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
