প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর এক অনন্য ও জীবন্ত স্থাপনা। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বে সংস্কৃতি বা রাজবংশের ইতিহাস নিয়ে বহু জাদুঘর থাকলেও এত ‘টাটকা’ ইতিহাস নিয়ে কোনো জাদুঘর কোথাও নেই।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে গণভবনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের চূড়ান্ত পর্যায়ের নির্মাণ কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
পরিদর্শন শেষে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “পৃথিবীতে বহু জাদুঘর আছে—সংস্কৃতি, রাজা-বাদশাহ বা প্রাচীন ইতিহাসের ওপর। কিন্তু আমাদের এই জাদুঘরের মতো নজির আর কোথাও নেই। এই ইতিহাসের কারিগররা আমাদের মধ্যেই আছেন, শহীদের কবরের মাটি আজও টাটকা। রক্তের দাগ শুকানোর আগেই আমরা এই ইতিহাসকে সংরক্ষণ করতে পেরেছি, এটি জাতির জন্য এক বিরাট সৌভাগ্য।”
তিনি আরও যোগ করেন, “এই জাদুঘরটি একটি জীবন্ত প্রতিষ্ঠান। আমরা এখানে যা কিছু দেখছি, তার প্রতিটি উপাদান এবং নেপথ্যের কাহিনিগুলো অত্যন্ত প্রাণবন্ত।”
পরিদর্শনকালে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা, উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য এবং ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান। জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
এছাড়াও গুম হওয়া পরিবারগুলোর সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা তুলি এবং গুম থেকে ফিরে আসা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমানসহ সরকারের পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জুলাই বিপ্লবের স্মৃতি ও আত্মত্যাগের মহিমাকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই গণভবনের এই স্থাপনাটিকে জাদুঘরে রূপান্তর করা হচ্ছে। খুব শীঘ্রই এটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।