আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় টানা দ্বিতীয় বছরের মতো অংশগ্রহণ করতে পারছে না বাংলাদেশ। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রবল আগ্রহ থাকলেও বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় অনুমতি না মেলায় আয়োজক কর্তৃপক্ষ ঢাকাকে এবারের মেলায় আমন্ত্রণ জানায়নি। ফলে গত বছরের মতো এবারও কলকাতার সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্কের ‘বইমেলা প্রাঙ্গণে’ লাল-সবুজ পতাকায় ঘেরা কোনো বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন দেখা যাবে না।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব চ্যাটার্জি আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলেও বর্তমান কূটনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র প্রয়োজন ছিল। দিল্লি থেকে কোনো ‘সবুজ সংকেত’ না আসায় গিল্ড কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশকে অংশগ্রহণের অনুমতি দিতে পারেনি।
তবে ত্রিদিব চ্যাটার্জি উল্লেখ করেন, কোনো নির্দিষ্ট প্রকাশনা সংস্থা যদি অন্য কোনো স্থানীয় স্টলে বই প্রদর্শন বা বিক্রি করতে চায়, তবে তাতে গিল্ডের কোনো আপত্তি থাকবে না।
৪৯তম এই বইমেলায় প্রথমবারের মতো যোগ দিচ্ছে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন। দীর্ঘ ১৫ বছর পর মেলায় ফিরছে চীন। এবারের মেলার 'থিম কান্ট্রি' হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে আর্জেন্টিনা। মোট ২১টি দেশ এবং ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের ১ হাজারের বেশি প্রকাশনা সংস্থা এবারের মেলায় অংশগ্রহণ করছে। তবে আর্থিক বরাদ্দ না থাকায় এবারের আসর থেকে সরে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
আগামী ২২শে জানুয়ারি সল্ট লেকের বইমেলা প্রাঙ্গণে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। বিশ্বের বৃহত্তম অ-বাণিজ্যিক এই বইমেলা চলবে ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রভাব বইমেলার মতো সাংস্কৃতিক আঙিনায় পড়তে শুরু করেছে। গত বছরও দীর্ঘ কয়েক দশকের ঐতিহ্য ভেঙে বাংলাদেশের প্রকাশকদের মেলায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি।
সূত্র: বিবিসি