× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

বাম্পার ফলনেও হাসতে পারছেন না বাঘার পেঁয়াজ চাষিরা

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:০৮ এএম । আপডেটঃ ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:২৩ এএম

রাজশাহীর বাঘায় পদ্মার চরে ফলন ভালো হলেও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় দুশ্চিন্তাগ্রস্ত কৃষকরা এখন মাঠ থেকে পেঁয়াজ তোলায় ব্যস্ত। ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পদ্মার চরাঞ্চলে চলতি মৌসুমে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। দিগন্তজোড়া মাঠে এখন পেঁয়াজ তোলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন শত শত শ্রমিক। তবে ফলন ভালো হলেও বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম না থাকায় চরম হতাশায় দিন কাটছে প্রান্তিক চাষিদের। উৎপাদন খরচ ও বাজারদরের অসামঞ্জস্যতায় অনেক চাষিই এখন বড় অঙ্কের লোকসানের শঙ্কায় রয়েছেন।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) উপজেলার চকরাজাপুর পাইকারি বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, প্রতি কেজি পেঁয়াজ মাত্র ২৫-৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পলাশিফতেপুর চরের চাষি রবিউল ইসলাম জানান, বর্তমানে যে বাজারদর চলছে তাতে উৎপাদন খরচ তোলাও মুশকিল। গত বছরের তুলনায় বীজ, সার ও কীটনাশকের দাম কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় লাভ তো দূরের কথা, মূলধন ফেরানো নিয়েই দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে।

খায়েরহাট এলাকার চাষি সুজন আলীর অভিজ্ঞতায় ধরা পড়ে আরও সংকটের চিত্র। তিনি চার বিঘা জমি লিজ নিয়ে আবাদ করতে গিয়ে জমির ভাড়া ও উৎপাদন খরচ বাবদ প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয় করেছেন। বর্তমান বাজারমূল্যে এই বিনিয়োগ উঠে আসা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

কালিদাসখালী চরের নারী শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চরাঞ্চলে অধিক লাভের আশায় অনেকেই আগাম জাতের পেঁয়াজ চাষ করেছিলেন। কিন্তু বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে বিঘা প্রতি ১০-১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা। চকরাজাপুর চরের পেঁয়াজ চাষি বাবলু দেওয়ান বলেন, "তিন বিঘা জমিতে ফলন চমৎকার হয়েছে, কিন্তু দাম না থাকায় মাঠেই স্বপ্ন ভাঙছে আমাদের।"

ব্যবসায়ীরা জানান, এই এলাকায় সাধারণত 'ঢ্যামনা' ও 'চারা'—এই দুই ধরনের পেঁয়াজ চাষ হয়। এর মধ্যে চারা পেঁয়াজ দীর্ঘ সময় মজুত রাখা সম্ভব বলে এর আবাদ বেশি হয়। তবে সঠিক দাম না পেলে মজুতের খরচ মেটানোও সম্ভব হবে না বলে দাবি চাষিদের।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান জানান, চলতি মৌসুমে বাঘা উপজেলায় পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর ধরা হলেও প্রকৃতপক্ষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৪ হাজার হেক্টরে। উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে পদ্মার দুর্গম চরাঞ্চলে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন আশাতীত ভালো হলেও বাজারমূল্য কমে যাওয়া চাষিদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বিষয় : রাজশাহী

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.