× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরলেন আরও ৩৬ বাংলাদেশি

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

২০ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:২৬ পিএম । আপডেটঃ ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:২৭ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিশেষ বিমানে ফেরত আসা বাংলাদেশিরা। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযানের মুখে পড়ে আরও ৩৬ বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় মার্কিন একটি বিশেষ সামরিক ফ্লাইটে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। ফেরত আসাদের মধ্যে ৩৫ জন পুরুষ এবং একজন নারী রয়েছেন। এ নিয়ে ২০২৫ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট ২৯৩ জন বাংলাদেশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে শূন্য হাতে দেশে ফিরলেন।

উন্নত জীবনের আশায় সহায়-সম্বল বিক্রি করে এবং চড়া সুদে ঋণ নিয়ে এই অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন। ভুক্তভোগীদের তথ্যমতে, জনপ্রতি ৪০ থেকে ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করেছিলেন তারা। নোয়াখালীর জাহিদুল ইসলাম প্রায় ৮০ লাখ টাকা এবং মির হাসান ৫৫ লাখ টাকা খরচ করে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিল হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করেন। একইভাবে রিয়াদুল ইসলাম ও রাকিব যথাক্রমে ৫০ ও ৬০ লাখ টাকা খুইয়ে এখন নিঃস্ব। গাজীপুরের সুলতানা আক্তার ব্রাজিল-মেক্সিকো সীমান্ত পাড়ি দিতে খরচ করেন ৩০ লাখ টাকা। কিন্তু দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন নাকচ হওয়ায় তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠায় মার্কিন প্রশাসন।

ফিরে আসা অভিবাসীদের একটি বড় অংশই জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্র নিয়ে বৈধভাবে ব্রাজিলে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে দালালের মাধ্যমে মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন তারা। ব্র্যাকের মাইগ্রেশন অ্যান্ড ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ১৩২০ জন বাংলাদেশি ব্রাজিলে গেছেন, যার মধ্যে ৯৫১ জনই নোয়াখালী জেলার। ধারণা করা হচ্ছে, ব্রাজিলকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য।

ফেরত আসা ৩৬ জনের মধ্যে ২১ জনই নোয়াখালী জেলার। এছাড়া লক্ষ্মীপুরের ২ জন এবং মুন্সীগঞ্জ, ঢাকা, লালমনিরহাট, শরীয়তপুর, বরগুনা, ফেনী, সিরাজগঞ্জ, গাজীপুর, কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও নেত্রকোনার একজন করে রয়েছেন। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তাদের পরিবহনসহ জরুরি সহায়তা প্রদান করে ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচি।

ব্র্যাকের মাইগ্রেশন অ্যান্ড ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, "সরকার যখন ব্রাজিলে কর্মী পাঠানোর অনুমতি দেয়, তখন তারা সত্যিই সেখানে কাজ করতে যাচ্ছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। বিপুল অর্থ খরচ করে এই মানুষদের ফিরে আসার দায় এজেন্সিগুলো এড়াতে পারে না। যারা এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিল, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।"

ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা গ্রহণের পর অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান তীব্রতর করেছেন। দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ (আইসিই) আদালত বা প্রশাসনিক আদেশের মাধ্যমে দ্রুত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে। অনেক ক্ষেত্রে সামরিক ও চার্টার্ড ফ্লাইটে কড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.