ইরানে চলমান অস্থিরতায় ইলন মাস্কের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা ‘স্টারলিংক’ ব্যবহার করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহনাবাদি। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ইরান দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন।
রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি অভিযোগ করেন, ইরানে চলমান সহিংসতা মূলত মার্কিন বুদ্ধিমত্তা ও প্রত্যক্ষ পরামর্শে পরিচালিত হচ্ছে। তার মতে, সশস্ত্র বিদ্রোহীরা প্রথমে পুলিশ সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং সেই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে পশ্চিমা বিশ্ব ফায়দা লুটছে। তিনি বলেন, “বিক্ষুব্ধ ব্যক্তিদের সশস্ত্র প্রশিক্ষণ দিয়ে ইরানজুড়ে সুপরিকল্পিতভাবে সহিংসতা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং এ কারণেই বিক্ষোভে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।”
গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনের বিষয়ে রাষ্ট্রদূত দাবি করেন, যতক্ষণ পর্যন্ত বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ ছিল, ততক্ষণ সরকার কোনো প্রকার বল প্রয়োগ করেনি। সংঘর্ষে নিহতদের মোট সংখ্যা সুনির্দিষ্টভাবে না জানালেও তিনি উল্লেখ করেন যে, এই সহিংসতায় অন্তত ১০০ জন পুলিশ সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈরী নীতি ও আক্রমণাত্মক মনোভাবের কঠোর সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দেশটিতে প্রশিক্ষিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তৈরি করেছে।
রাষ্ট্রদূত জাহনাবাদি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, “ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে জ্বালানি চুক্তি করতে রাজি হয়, তবে ওয়াশিংটন তাৎক্ষণিকভাবে সব অভিযোগ তুলে নেবে।” তবে তেহরান তাদের জাতীয় স্বার্থের সাথে আপস করবে না উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের যেকোনো সম্ভাব্য হামলা প্রতিহত করতে ইরান বর্তমানে সামরিকভাবে সম্পূর্ণ সক্ষম।