× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট কেন? সরকারের ৬ ব্যাখ্যা

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৪৩ এএম । আপডেটঃ ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৪৩ এএম

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং

আসন্ন গণভোটে ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’ বাস্তবায়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের পক্ষে সরকারের ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রচারণাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্কের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। রবিবার (১৮ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় এই অবস্থানের সপক্ষে ছয়টি সুনির্দিষ্ট যুক্তি তুলে ধরা হয়। সরকার জানিয়েছে, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নেওয়া পক্ষপাতিত্ব নয়, বরং এটি একটি দায়িত্বশীল নেতৃত্বের অপরিহার্য অংশ।


১. ম্যান্ডেট শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং আমূল সংস্কার

বার্তায় বলা হয়, এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কেবল দৈনন্দিন রাষ্ট্র পরিচালনা বা রুটিন নির্বাচনের জন্য গঠিত হয়নি। এটি দীর্ঘদিনের অপশাসন ও শাসনতান্ত্রিক সংকটের প্রেক্ষাপটে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ফসল। সরকারের মূল ম্যান্ডেট হলো রাষ্ট্রকে স্থিতিশীল করা এবং ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে প্রয়োজনীয় সংস্কারের কাঠামো তৈরি করা। ফলে যে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই সরকার গঠিত হয়েছে, সেই সংস্কার প্যাকেজের পক্ষে অবস্থান না নেওয়া হবে নিজেদের মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী।


২. গণতান্ত্রিক চর্চা ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত

আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক রীতি অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বা প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন নিয়ে সরকারপ্রধানদের নীরব থাকার বাধ্যবাধকতা নেই। সরকার মনে করে, নেতারা যখন সংস্কারের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন, তখন ভোটারদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরও তথ্যভিত্তিক ও অর্থবহ হয়। গণতান্ত্রিক বৈধতার মূল শর্ত হলো ভোটাররা স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ পাচ্ছেন কি না এবং প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ কি না—যা বর্তমানে পুরোপুরি বিদ্যমান।


৩. নেতৃত্বের অপরিহার্যতা

বিগত বছরগুলোতে প্রতিষ্ঠানগুলোর রাজনৈতিকীকরণ ও শাসনব্যর্থতার কারণে দেশ যে সংকটে পড়েছে, তার জবাব হিসেবেই এই সংস্কার প্রস্তাব। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস নিজে এই সংস্কার প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাই সংকটময় এই সন্ধিক্ষণে তার নীরব থাকা হবে অসংগত ও দায়িত্বহীনতা। নেতৃত্বের বৈধতা যেহেতু সংস্কার থেকে আসে, তাই এর সপক্ষে কথা বলা সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব।


৪. আন্তর্জাতিক নজির ও স্বার্থহীন অবস্থান

বিশ্বের অনেক দেশেই সরকারপ্রধানরা জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ গণভোটে প্রকাশ্যে অবস্থান নেন। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিশেষ দিক হলো, এই গণভোটের ফলাফলের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো ব্যক্তিগত বা দলীয় নির্বাচনি স্বার্থ জড়িত নেই। অধ্যাপক ইউনূস বা তাঁর উপদেষ্টারা ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে চান না। তাঁদের লক্ষ্য কেবল একটি সুদৃঢ় গণতান্ত্রিক ভিত্তি তৈরি করা, যার সুফল ভোগ করবে পরবর্তী নির্বাচিত সরকার।


৫. বিভ্রান্তি দূর করতে প্রচারণা

জেলা পর্যায়ে সরকারি প্রচারণার বিষয়ে ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, এর মূল উদ্দেশ্য হলো সংস্কারের বিষয়বস্তু জনগণের কাছে স্পষ্ট করা। ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে যাতে কেউ জনমতকে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, সেজন্যই জেলা প্রশাসন কাজ করছে। এই সম্পৃক্ততা কোনোভাবেই বিরোধী মত দমন বা জবরদস্তি নয়, বরং জনসচেতনতা তৈরির অংশ।


৬. আস্থার ধারাবাহিকতা রক্ষা

পরিশেষে সরকার জানিয়েছে, এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো দ্বিধা ও নীরবতা। সংস্কারের পক্ষে সরকার অবস্থান না নিলে জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ণ হতে পারে এবং পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণাকে নীতিগত লঙ্ঘন নয়, বরং একটি গণতান্ত্রিক দায়িত্ব হিসেবে দেখছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.