বাংলাদেশ ও ফিনল্যান্ডের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুসংহত করার লক্ষে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও গণতান্ত্রিক সংস্কারসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে উভয় দেশ। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম) ড. মহম্মদ নজরুল ইসলামের সঙ্গে ফিনল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত কিমো লাহদেভির্তার এক সৌজন্য সাক্ষাতে এই অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
বৈঠকে উভয় পক্ষ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে বাণিজ্য, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি, ডিজিটাল পরিষেবা এবং বস্ত্র খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করেন। বিশেষ করে, বাংলাদেশের রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ইপিজেড) বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। রাষ্ট্রদূতকে বাংলাদেশের ইপিজেডগুলো পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানানো হলে তিনি গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং জানান যে, ফিনল্যান্ডের ব্যবসায়ী সম্প্রদায় আসন্ন ‘ইইউ বিজনেস ইভেন্টে’ অংশ নিতে আগ্রহী।
বৈঠকে ড. নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের চলমান সংস্কার এজেন্ডা, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট এবং ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে ফিনল্যান্ডের সমর্থনের প্রশংসা করেন তিনি। জবাবে রাষ্ট্রদূত জানান, ফিনল্যান্ডের নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা শিগগিরই ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পর্যবেক্ষণ মিশনের সঙ্গে বাংলাদেশে যোগ দেবেন।
স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ ‘জিএসপি প্লাস’ সুবিধা নিশ্চিত করতে ফিনল্যান্ডের সমর্থন কামনা করেছে। এ ছাড়া, ভবিষ্যৎ বাজার সুবিধা বজায় রাখতে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন পররাষ্ট্র সচিব।
সাক্ষাৎকালে দুই দেশই গত ১৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশ প্রাইভেট কেবল সিস্টেম (বিপিসিএস) এবং নোকিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির প্রশংসা করে। এটি সিঙ্গাপুরের সঙ্গে কক্সবাজারকে সংযুক্ত করার লক্ষে বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি সাবমেরিন ক্যাবল প্রকল্প, যা দেশের ডিজিটাল অবকাঠামোতে নতুন মাত্রা যোগ করবে।