× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ভোট ডাকাতির পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:০৫ এএম । আপডেটঃ ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:৩০ এএম

সোমবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তিনটি জাতীয় নির্বাচনের তদন্ত প্রতিবেদন তুলে দিচ্ছেন জাতীয় নির্বাচন তদন্ত কমিশনের চেয়ারম্যান সাবেক বিচারপতি শামীম হাসনাইন ও সদস্যবৃন্দ। ছবি: বাসস

বিগত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪) নজিরবিহীন জালিয়াতি ও পদ্ধতিগত অনিয়মের বিস্তারিত চিত্র উঠে এসেছে জাতীয় নির্বাচন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। প্রতিবেদন গ্রহণকালে প্রধান উপদেষ্টা সাফ জানিয়ে দেন, ভবিষ্যতে দেশে যেন আর কখনোই ভোট ডাকাতির সুযোগ না থাকে, সেই স্থায়ী ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমরা ভোট ডাকাতির কথা শুনেছিলাম, কিন্তু পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে এত নির্লজ্জভাবে বিকৃত করে সিস্টেমকে দুমড়ে-মুচড়ে ফেলা হবে, তা কল্পনা করাও কঠিন। তারা নিজেদের মতো করে কাগজে রায় লিখে দিয়েছে। এই অপকর্মের পুরো রেকর্ড জাতির সামনে থাকা দরকার।” তিনি আরও যোগ করেন, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় নির্বাচন আয়োজন করে পুরো জাতিকেই শাস্তি দেওয়া হয়েছে। যারা এর সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের পরিচয় জনসমক্ষে আনা জরুরি।

তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে বিগত তিনটি নির্বাচনের কারচুপির ভিন্ন ভিন্ন কৌশল তুলে ধরা হয়েছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় এবং বাকি ১৪৭টি আসনে সুপরিকল্পিত ও সাজানো ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতা’র মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখা হয়।

২০১৮ সালের নির্বাচনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৮০ শতাংশ কেন্দ্রে নির্বাচনের আগের রাতেই ব্যালটে সিল মেরে জয় নিশ্চিত করা হয়েছিল। কোনো কোনো কেন্দ্রে ভোট প্রদানের হার ১০০ শতাংশের বেশি দেখানো হয়, যা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের একটি ‘অসৎ প্রতিযোগিতার’ ফল ছিল।২০২৪ সালের নির্বাচনে বিরোধী দলগুলোর বর্জনের মুখে ডামি প্রার্থী দাঁড় করিয়ে নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক দেখানোর ব্যর্থ চেষ্টা চালানো হয়।

তদন্তে উঠে এসেছে, নির্বাচনের পরিকল্পনাগুলো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে বাস্তবায়িত হতো। প্রশাসন, পুলিশ, নির্বাচন কমিশন এবং গোয়েন্দা সংস্থার একাংশকে ব্যবহার করে একটি ‘বিশেষ নির্বাচন সেল’ গঠন করা হয়েছিল। ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত নির্বাচন ব্যবস্থা কার্যত নির্বাচন কমিশনের হাত থেকে কেড়ে নিয়ে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছিল।

প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন কমিশনের চেয়ারম্যান সাবেক বিচারপতি শামীম হাসনাইন এবং সদস্য শামীম আল মামুন, কাজী মাহফুজুল হক সুপন, ব্যারিস্টার তাজরিয়ান আকরাম হোসেন ও ড. মো. আব্দুল আলীম। এছাড়াও আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, তথ্য উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.