আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পেশাজীবীদের মধ্যে ব্যবসায়ীদের জয়জয়কার। বৈধ হওয়া ১ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থীর মধ্যে ৮১৪ জনই ব্যবসায়ী, যা মোট প্রার্থীর ৪৪ শতাংশ। অন্যদিকে, রাজনীতিকে একমাত্র পেশা হিসেবে উল্লেখ করেছেন মাত্র ২৬ জন প্রার্থী।
হলফনামা অনুযায়ী, ব্যবসায়ীদের সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিয়েছে বিএনপি (১৯৪ জন)। এরপর রয়েছে ইসলামী আন্দোলন (৯৬) ও জাতীয় পার্টি (৮৯)। বিপরীতে এনসিপি, গণঅধিকার পরিষদ, এবি পার্টিসহ বেশ কিছু দলে এমন একজন প্রার্থীও নেই যার একমাত্র পেশা রাজনীতি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সংসদ নির্বাচনে ব্যবসায়ীদের এই অত্যধিক প্রাধান্য গণতান্ত্রিক সুস্থ ধারার জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত নয়। শিক্ষকদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সংখ্যা সবচেয়ে বেশি (৮০ জন)। ব্যবসায়ীদের পর তালিকায় ক্রমান্বয়ে রয়েছেন শিক্ষক, আইনজীবী ও কৃষিজীবীরা।
নির্বাচনী সমীকরণে বড় পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলের সম্ভাব্য জোট। সূত্রমতে, ১৯০টি আসন নিজেদের জন্য রেখে বাকিগুলো শরিকদের ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে জামায়াত। এর মধ্যে ১৭০টি আসনে তারা কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। সমঝোতা অনুযায়ী, ইসলামী আন্দোলনকে ৪০টি এবং এনসিপিকে ৩০টি আসন দেওয়ার বিষয়ে প্রাথমিক সম্মতি হয়েছে। এছাড়া এলডিপি, এবি পার্টি ও বিডিপিও এই সমঝোতার আওতায় রয়েছে।
দীর্ঘদিন পর গণমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক মতবিনিময় করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ৫ আগস্টের আগের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে আর ফিরতে চায় না দেশ। যেকোনো মূল্যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "প্রতিহিংসার রাজনীতি বিপর্যয় ডেকে আনে, সংলাপই সংকটের একমাত্র সমাধান।"
আর্থিক খাতে বড় ধরনের অনিয়মের তথ্য সামনে এসেছে। সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের পরিবারের নিয়ন্ত্রণে থাকাকালীন ইউসিবি ব্যাংক থেকে ১০২ জন হতদরিদ্রের নামে ৯৬৩ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এদিকে, দেশ এক গভীর জ্বালানি সংকটের দিকে এগোচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। বর্তমানে দৈনিক ১২২ কোটি ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে, যা মেটাতে সাড় ৫১ হাজার কোটি টাকার এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।