ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সমর্থনে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিক্ষোভ করে সাজাপ্রাপ্ত অবশিষ্ট ২৫ জন বাংলাদেশি নাগরিককেও সাধারণ ক্ষমা করেছেন দেশটির রাষ্ট্রপতি শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। এই মহানুভবতার ফলে আন্দোলনের জেরে আমিরাতে বন্দি হওয়া সব বাংলাদেশি নাগরিকই এখন কারামুক্ত হলেন।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) ঢাকায় অবস্থিত সংযুক্ত আরব আমিরাত দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির রাষ্ট্রপতি এই মানবিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
গত বছরের জুলাই মাসে বাংলাদেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সংহতি জানিয়ে আরব আমিরাতের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ করেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। দেশটির কঠোর আইন অনুযায়ী সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ হওয়ায় তখন বহু প্রবাসীকে গ্রেফতার করে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সরাসরি অনুরোধে গত সেপ্টেম্বর মাসে প্রথম দফায় ১৮৮ জন বন্দিকে ক্ষমা করেছিলেন আমিরাত রাষ্ট্রপতি। তবে বাকিদের মুক্তির প্রক্রিয়া তখনো চলমান ছিল। সরকারের পক্ষ থেকে নিরবচ্ছিন্ন কূটনৈতিক ও আইনি প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতায় এবার অবশিষ্ট ২৫ জনের মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত হলো।
দূতাবাস সূত্র জানায়, ক্ষমাপ্রাপ্ত ২৫ জনকেই ইতোমধ্যে কারাগার থেকে মুক্তি দিয়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এই পদক্ষেপকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাংলাদেশের মধ্যকার গভীর ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবে দেখছে উভয় দেশ। এটি আমিরাতের নেতৃত্বের সহমর্মিতা ও ন্যায়বিচারের এক অনন্য দৃষ্টান্ত বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ নভেম্বর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল অবশিষ্ট বন্দিদের দ্রুত মুক্তির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন। জুলাইয়ের সেই উত্তাল সময়ে আমিরাতে গ্রেফতার হওয়াদের মধ্যে একজন দুর্ভাগ্যবশত কারাগারে মৃত্যুবরণ করেন।