ভোক্তা পর্যায়ে এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য পুনঃসমন্বয় ও প্রশাসনের ‘হয়রানি’ বন্ধসহ বেশ কিছু দাবিতে সারাদেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলপিজি) সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড। পূর্বঘোষিত আলটিমেটাম অনুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই ধর্মঘট চলবে। এর ফলে সাধারণ গ্রাহক পর্যায়ে রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বুধবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এলপিজি ব্যবসায়ীরা ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন। দাবি আদায়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় বুধবার সন্ধ্যায় সারাদেশে পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের জন্য সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধের আনুষ্ঠানিক নোটিশ জারি করে সমিতি। এই নির্দেশনার ফলে কোম্পানিগুলোর প্ল্যান্ট থেকে গ্যাস উত্তোলন এবং সারাদেশে সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অচল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি সেলিম খান জানান, আজ (বৃহস্পতিবার) বেলা তিনটায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সঙ্গে ব্যবসায়ীদের একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে সন্তোষজনক সমাধান না আসা পর্যন্ত বিক্রি বন্ধ থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে মূলত তিনটি বড় সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়। বর্তমানে পরিবেশক কমিশন ৫০ টাকা ও খুচরা কমিশন ৪৫ টাকা নির্ধারিত রয়েছে। ব্যবসায়ীরা এটি বাড়িয়ে যথাক্রমে ৮০ টাকা ও ৭৫ টাকা করার দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবেশকদের ওপর চালানো জরিমানা ও অভিযানকে ‘অযৌক্তিক’ দাবি করে তারা এটি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। গত ৪ জানুয়ারি বিইআরসি কর্তৃক ঘোষিত মূল্য তালিকায় পরিবেশকদের স্বার্থ রক্ষা করা হয়নি বলে অভিযোগ তাদের। তাদের দাবি, ব্যবসায়ী ও পরিবেশকদের সঙ্গে আলোচনা না করেই এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, জ্বালানি বিভাগ, বিইআরসি এবং এলপিজি কোম্পানিগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমদানি সমস্যার সমাধান করা জরুরি ছিল। কিন্তু সেটি না করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের ওপর ‘আতঙ্ক’ সৃষ্টি করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি সংকট ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধির বিপরীতে বিইআরসির নির্ধারিত কমিশন বর্তমানে লোকসানের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।