জানুয়ারির হাড়কাঁপানো শীতে জবুথবু হয়ে পড়েছে দেশ। দেশের চারটি বিভাগ ও ১২টি জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার শৈত্যপ্রবাহ। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বুধবার সকালে নওগাঁর বদলগাছীতে চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পৌষের শেষভাগে এসে শীতের এই তীব্র দাপটে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জনজীবন।
আবহাওয়া অফিসের তথ্যানুযায়ী, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের সব জেলাসহ টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, নেত্রকোণা, মৌলভীবাজার, লক্ষ্মীপুর ও কুমিল্লা জেলার ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক জানান, এই পরিস্থিতি আরও কয়েকদিন স্থায়ী হতে পারে। বিশেষ করে আগামী দুই দিন তীব্র শীতের অনুভূতি অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
কুয়াশার দাপট ও তাপমাত্রার ব্যবধান
ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ে আছে দেশের পশ্চিমাঞ্চল। কুয়াশার কারণে দিনের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান কমে আসায় শীতের প্রকোপ বেশি অনুভূত হচ্ছে। বুধবার সকালের দিকে পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে রোদের দেখা মিললেও পশ্চিমাঞ্চলে কুয়াশা কাটেনি। পূর্বাভাস বলছে, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারও কুয়াশার এই দাপট বজায় থাকবে। শনিবার থেকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে।
আগামী রোববার পর্যন্ত আকাশ আংশিক মেঘলাসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়: বুধ ও বৃহস্পতিবার রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে, তবে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। নদী অববাহিকায় মধ্যরাত থেকে দুপুর পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশে শীতের মূল দাপট জানুয়ারি মাসজুড়েই থাকে। ২০১৮ সালের ৮ জানুয়ারি তেঁতুলিয়ায় দেশের ইতিহাসের সর্বনিম্ন ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, আবহাওয়া বিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী, তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তাকে মৃদু, ৬ থেকে ৮ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে মাঝারি এবং ৪ থেকে ৬ ডিগ্রির নিচে নামলে তাকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। সেই হিসেবে দেশের বড় একটি অংশ এখন মাঝারি শৈত্যপ্রবাহের কবলে।