× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

বঙ্গোপসাগরের ২ হাজার মিটার গভীরে প্লাস্টিক, কমছে মাছ: গবেষণায় উদ্বেগ

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:০৯ এএম । আপডেটঃ ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:০৯ এএম

গভীর সমুদ্রে মৎস্য সম্পদ ও ইকোসিস্টেমের ওপর পরিচালিত জরিপ প্রতিবেদন গ্রহণ করছেন প্রধান উপদেষ্টা।

বঙ্গোপসাগরের তলদেশের ইকোসিস্টেম ও মৎস্যসম্পদ নিয়ে পরিচালিত এক আন্তর্জাতিক জরিপের ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, সমুদ্রের প্রায় ২ হাজার মিটার গভীরেও পৌঁছে গেছে ক্ষতিকর প্লাস্টিক। পাশাপাশি গভীর সমুদ্রে বড় মাছের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এই গবেষণা প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়া হয়েছে।

গবেষণা জাহাজ 'আর.ভি. ড. ফ্রিডজোফ নানসেন'-এর মাধ্যমে গত বছরের ২১ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই জরিপ চালানো হয়। সভায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সায়েদুর রহমান চৌধুরী জানান, গভীর সমুদ্রে প্লাস্টিকের উপস্থিতি সামুদ্রিক পরিবেশের জন্য চরম উদ্বেগের। এছাড়া অতিরিক্ত মৎস্য আহরণের (ওভার ফিশিং) ফলে সমুদ্রে জেলিফিশের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে, যা সামুদ্রিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার স্পষ্ট লক্ষণ।

আট দেশের ২৫ জন বিজ্ঞানীর এই গবেষণায় ৬৫ প্রজাতির নতুন জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তবে ২০১৮ সালের গবেষণার সঙ্গে তুলনা করে দেখা গেছে, গভীর সমুদ্রে বড় মাছের সংখ্যা অনেক কমেছে। এছাড়া স্বল্প গভীর পানিতেও মাছের মজুদ আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। তবে আশার কথা হলো, বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রে টুনা মাছের বিশাল বাণিজ্যিক সম্ভাবনা খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

জরিপে দেখা গেছে, গভীর সমুদ্রে প্রায় ২৭০ থেকে ২৮০টি বড় ট্রলার মাছ ধরছে। এর মধ্যে ৭০টি ট্রলার ‘সোনার’ প্রযুক্তির মাধ্যমে নির্দিষ্ট মাছের ঝাঁক চিহ্নিত করে ‘টার্গেটেড ফিশিং’ করছে। একে ‘আগ্রাসী পদ্ধতি’ আখ্যা দিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, “এভাবে চলতে থাকলে বঙ্গোপসাগর দ্রুতই মাছশূন্য হয়ে পড়বে। সোনার ফিশিং বন্ধে সরকার দ্রুতই কঠোর সিদ্ধান্ত নেবে।”

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “আমাদের স্থলভাগের সমপরিমাণ সম্পদ জলভাগেও রয়েছে, যা আমরা এখনো পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারিনি। এই সম্পদকে দেশের অর্থনীতির কাজে লাগাতে পর্যাপ্ত গবেষণা ও পলিসি সাপোর্ট প্রয়োজন।” তিনি জাপান, ইন্দোনেশিয়া ও মালদ্বীপের সঙ্গে যৌথ গবেষণার মাধ্যমে ব্লু-ইকোনমির নতুন দিগন্ত উন্মোচনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

উল্লেখ্য, সামুদ্রিক গবেষণা সক্ষমতা বাড়াতে যুক্তরাজ্যের রয়্যাল নেভির বহুমুখী ভেসেল ‘এইচএমএস এন্টারপ্রাইজ’ বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এটি সমুদ্রের তলদেশের তথ্য সংগ্রহে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.