আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের থাকা ও খাওয়ার খরচ বহনের সিদ্ধান্তকে ‘অপরিণামদর্শী ও বৈষম্যমূলক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি অবিলম্বে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) এই সিদ্ধান্ত বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের আতিথেয়তা স্বার্থের দ্বন্দ্ব তৈরি করবে এবং নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষণকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।
সিদ্ধান্তটি বৈষম্যমূলক ও নৈতিকতাবিরোধী বিবৃতিতে ড. ইফতেখারুজ্জামান উল্লেখ করেন, বিদেশি পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে—এমন ঠুনকো যুক্তিতে রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয় করা অবিমৃশ্যকারী সিদ্ধান্ত। তিনি প্রশ্ন তোলেন, "বিদেশি পর্যবেক্ষকদের খরচ বহন করা হলে দেশি পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রে কেন একই নীতি অনুসরণ করা হবে না? এটি স্পষ্টতই বৈষম্যমূলক।"
স্বার্থের দ্বন্দ্ব ও নিরপেক্ষতার সংকট টিআইবি মনে করে, নির্বাচন কমিশনের আতিথেয়তা গ্রহণ করলে পর্যবেক্ষকরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে জনমনে সন্দেহ দেখা দেবে। ইফতেখারুজ্জামানের মতে, কমিশনের খরচে সুযোগ-সুবিধা গ্রহণকারীরা অনেকটা ‘ভাড়াটে পর্যবেক্ষক’ হিসেবে পরিগণিত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকবেন। এতে নির্বাচনের বস্তুনিষ্ঠ ও নির্মোহ মূল্যায়ন বাধাগ্রস্ত হবে।
পর্যবেক্ষকদের প্রতি আহ্বান বিবৃতিতে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের প্রতি প্রশ্ন রেখে বলা হয়, তারা কোন নৈতিকতায় বা যুক্তিতে বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে এই দায়িত্ব গ্রহণ করবেন? টিআইবি আশা প্রকাশ করে যে, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা নিজেদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে এ ধরনের আতিথেয়তা গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকবেন।
বিগত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা ও বর্তমান কমিশনের ভূমিকা বিগত ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনের উদাহরণ টেনে বিবৃতিতে বলা হয়, পতিত সরকার কৃত্রিমভাবে নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য দেখাতে বিদেশিদের সুযোগ-সুবিধা প্রদান করেছিল, যা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর জনমনে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, ইসি এমন বিতর্কিত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তা নষ্ট করবে না বলে টিআইবি বিশ্বাস করে।